শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ০৮:১৫ অপরাহ্ন

সুরস্রস্টা মেহেদী হাসানের আজ মৃত্যুবাষিকী – আহমেদ জহুর

সুরস্রস্টা মেহেদী হাসানের আজ মৃত্যুবাষিকী – আহমেদ জহুর

সুরস্রস্টা মেহেদী হাসানের আজ মৃত্যুবাষিকী - আহমেদ জহুর

গজল সম্রাট ও সুরস্রষ্টা মেহেদী হাসানের আজ ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁকে হৃদয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি! মেহেদী হাসানের জন্ম ১৯২৭ সালের ১৮ জুলাই ভারতের রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার লুনাতে। ২০১২ সালের ১৩ জুন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে মৃত্যুবরণ করেন।

মেহেদী হাসান খান পাকিস্তানের গজল গায়ক ও ললিউডের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী ছিলেন। উপমহাদেশের অন্যতম প্রবাদপ্রতিম গায়ক ও সুরস্রষ্টা ছিলেন। পাকিস্তান চলচ্চিত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের তরফে তমঘা-ই-ইমতিয়াজ, প্রাইড অফ পারফরম্যান্স এবং হিলাল-ই-ইমতিয়াজ এবং নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে গোর্খা দক্ষিণা বাহু উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

প্রাথমিক জীবন….
অবিভক্ত ভারতের রাজস্থানে মেহেদী হাসান জন্ম হয়েছিল একটি সঙ্গীত পরিবারে। তিনি দাবী করেছিলেন যে, তাঁদের ষোল পূর্ব-পুরুষরা সঙ্গীতে আসক্ত ছিলেন। তাঁর পিতা ওস্তাদ আজিম খান একজন গায়ক ছিলেন। চাচা ওস্তাদ ইসমাইল খান ও পিতা আজিম খানের কাছ থেকে সঙ্গীতে হাতেখড়ি। তাঁরা উভয়েই সনাতন ঘরানার ধ্রুপদী সঙ্গীতে দক্ষ ছিলেন।

শৈশব থেকেই তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করতেন। তাঁর বড়ভাই উল্লেখ করেন যে, প্রথম গান আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবশন করেন ১৯৩৫ সালে। পরিবেশনার স্থানটি ছিল অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ফাজিলকা বুংলায়, বর্তমান ডিসি হাউজে।

ভারত বিভাজনের পর ২০ বছর বয়সী মেহেদী হাসান এবং তাঁর পরিবার পাকিস্তানে অভিবাসিত হন। সেখানে তাঁকে নিদারুণ অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগতে হয়। তিনি চিচাওয়ান্তি এলাকার একটি সাইকেলের দোকানে কাজ করতে থাকেন। সেখানে তিনি গাড়ি ও ডিজেল ট্রাক্টর মেকানিক হিসেবে ছিলেন।

আর্থিক অসচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও সঙ্গীত চর্চা করতে থাকেন। রুটিনমাফিক দৈনিকভিত্তিতে গান চর্চা অব্যাহত রাখেন। ব্যক্তিগত জীবনে আসিফ মেহেদীসহ ৯ পুত্র ও ৫ কন্যা সন্তানের জনক তিনি।

সঙ্গীত জীবন….
১৯৫২ সালে মেহেদী হাসান প্রথমবারের মতো রেডিও পাকিস্তানে গান করার সুযোগ পান। প্রাথমিকভাবে সেখানে তিনি ঠুমরী গায়ক ছিলেন। চাচা ইসমাইল খান তাঁকে সঙ্গীত পরিচালকরূপে গড়ে তুলতে সর্বোতভাবে সহায়তা করেন। এতে তিনি সঙ্গীতবোদ্ধাদের মন জয় করেন।

উর্দু ভাষায় রচিত কবিতায় তাঁর আগ্রহ ছিল অনেক। পরীক্ষামূলকভাবে খণ্ডকালীনভিত্তিতে তিনি গজল গাইতে শুরু করেন। রেডিও কর্মকর্তা জেড.এ বুখারী ও রফিক আনোয়ার তাঁর গজল গানের ভক্ত হন। তাঁদের আন্তরিক অনুপ্রেরণায় তিনি পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গীত ঘরানায় অন্যতম জনপ্রিয় গজল গায়কে পরিণত হন। ১৯৮০-এর দশকের শেষার্ধ থেকে তিনি বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হতে থাকেন। ফলে একান্তই বাধ্য হয়ে সঙ্গীত জগত ত্যাগ করেন মেহেদী হাসান।

২০১০ সালের অক্টোবরে এইচএমভি থেকে সারাদিন শিরোনামে দ্বৈত গানের এলবাম প্রকাশ করে। ধারণা করা হয় যে, এটি ছিল তাঁর প্রথম এবং শেষ দ্বৈত গানের এলবাম। এতে ‘তেরে মিলনা’ গানে লতা মঙ্গেশকরের সাথে গান করেন তিনি। গানটির সুরকার ছিলেন তিনি স্বয়ং, গানটি লিখেছিলেন ফারহাত শাহজাদ। ২০০৯ সালে গানটি পাকিস্তানে রেকর্ড করা হয়। পরে লতা মঙ্গেশকর গানটি শ্রবণ করে ২০১০ সালে ভারতে রেকর্ড করেন। এর ফলশ্রুতিতেই উভয়ের মিলিত কণ্ঠে গানটি প্রকাশিত হয়।

পুরস্কার সম্মাননা….
মেহেদী হাসান সুদীর্ঘকাল সঙ্গীত ভুবনে অবস্থান করে অগণিত পুরস্কার-সম্মাননা লাভ করেছেন। তন্মধ্যে- জেনারেল আইয়ুব খান কর্তৃক তমঘা-ই-ইমতিয়াজ, ১৯৮৫ সালে জেনারেল জিয়াউল হক দিয়েছেন প্রাইড অফ পারফরম্যান্স, জেনারেল পারভেজ মুশাররফ দিয়েছেন হিলাল-ই-ইমতিয়াজ, নিগার পুরস্কার।


১৯৭৯ সালে ভারতের জলন্ধরে সায়গল পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে নেপাল থেকে গোর্খা দক্ষিণা বাহু পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

© আহমেদ জহুর
কবি, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক

azohur2002@gmail.com

তথ্য : উইকিপিডিয়া। ছবি : গুগল ইমেজ….

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD