মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মাংকি ট্রায়াল, সমাজ বাস্তবতা ও একজন বিজ্ঞান সমালোচক আবু সাঈদ তুলু মাংকি ট্রায়াল,সমাজ বাস্তবতা ও একজন বিজ্ঞান সমালোচক আবু সাঈদ তুলু কলকাতার অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনা থেকে হাসনাইন সাজ্জাদী’র ‘কবিতায় বিজ্ঞান অ-বিজ্ঞান’ প্রকাশিত। আমাজন সহ পাওয়া যাচ্ছে সকল অনলাইন মাধ্যমে ‘ দুর্ঘটনায় পড়লেন বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা দূত ড. চন্দন বাঙ্গাল আমার কবিতাভাবনা ও বিজ্ঞানকবিতা -হাসনাইন সাজ্জাদী জাতির পিতার জন্য দোয়া কামনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের ইফতার অনুষ্ঠিত জাতির পিতার জন্য দোয়া কামনার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্বনেতার ১০২তম জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; নবাব সলিমুল্লাহ ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন কবিতাবিজ্ঞান দিয়ে বিশ্বসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন হাসনাইন সাজ্জাদী- এস এম শাহনূর
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ রফি -আহমেদ জহুর

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ রফি -আহমেদ জহুর

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ রফি -আহমেদ জহুর

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ রফি
আহমেদ জহুর

মোহাম্মদ রফির মৃত্যুর পর গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের ১৯৮৪ সালের সংস্করণে লেখা হয়, ‘মোহাম্মদ রফি ১১টি ভারতীয় ভাষায় ১৯৪৪ সাল থেকে ১৯৮০ সালের এপ্রিলের মধ্যে ২৮ হাজারের এর মতো গান গেয়েছেন।’ প্রাপ্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান মোতাবেক ১৯৪৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে মোহাম্মদ রফি ৪,৫১৬টি হিন্দি ছবির গান, ১১২টি অন্যান্য চলচ্চিত্রের গান এবং ৩২৮টি বিভিন্ন ধরনের গান রেকর্ড করেছেন। আজ মোহাম্মদ রফির ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

মোহাম্মদ রফি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশে ১৯২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সমগ্র উপমহাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সঙ্গীত ভুবনে সুদীর্ঘ চার দশক অতিবাহিত করেন। সঙ্গীতকলায় অসামান্য অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে জাতীয় পদক এবং ৬-বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া, তিনি ১৯৬৭ সালে ভারত সরকারের পদ্মশ্রী সম্মানেও অভিষিক্ত হয়েছেন। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে সঙ্গীত জগতে ছাব্বিশ হাজারেরও অধিক চলচ্চিত্রের গানে নেপথ্য গায়ক হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বহুবিধ গানে অংশ নেয়ার বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনি। তন্মধ্যে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক, বিরহ-বিচ্ছেদ, উচ্চ মার্গের প্রেম-ভালবাসা, কাওয়ালী, ভজন, গজল-সহ বিভিন্ন গোত্রের গানে দক্ষতা ও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন সমানভাবে। বিশেষ করে হিন্দি এবং উর্দু ভাষায় সমান দক্ষতা থাকায় তাঁর গানগুলোতে বৈচিত্র্য এসেছে সমধিক।

শৈশব-কৈশোর….
ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরের কাছাকাছি কোটলা সুলতান সিংয়ের অধিবাসী হাজী আলী মোহাম্মদের ৬ষ্ঠ সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন রফি। তাঁর ডাক নাম ছিল ফিকো। নিজ গ্রামে এক ফকিরের ভজন গানকে অনুকরণ করে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। জীবিকার সন্ধানে তাঁর বাবা হাজী আলী মোহাম্মদ ১৯২০ সালে লাহোরে চলে যান। তাঁর বড়ভাই মোহাম্মদ দ্বীনের বন্ধু আবদুল হামিদ লাহোরে অবস্থানকালীন সময়ে রফি’র সঙ্গীত প্রতিভা দেখে তাঁকে গান গাইতে সাহস জুগিয়েছিলেন। পরে তিনি রফি’র শ্যালক হয়েছিলেন। আবদুল হামিদ পরবর্তী সময়ে পরিবারের বড়দের কাছ থেকে সম্মতি আদায় করে তাঁকে বোম্বে পাঠান। ১৯৪৪ সালে মোহাম্মদ রফি বোম্বে গিয়ে উস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খান, উস্তাদ আব্দুল ওয়াহিদ খান, পণ্ডিত জীবনলাল মত্তো এবং ফিরোজ নিজামী’র মতো প্রথিতযশা শিল্পীদের কাছ থেকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন।

১৩ বছর বয়সে মোহাম্মদ রফি লাহোরের প্রথিতযশা শিল্পী কেএল সাইগলের সাথে প্রথম দর্শক-শ্রোতাদের মুখোমুখি হয়ে কনসার্টে গান পরিবেশন করেন। ১৯৪১ সালে শ্যাম সুন্দরের নির্দেশনায় লাহোরে নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজেকে অভিষেক ঘটান। পাঞ্জাবী ভাষায় নির্মিত গুল বালুচ (১৯৪৪) চলচ্চিত্রে জিনাত বেগমের সঙ্গে দ্বৈত সঙ্গীতে অংশ নেন। একই বছরে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও’র লাহোর সম্প্রচার কেন্দ্রে গান পরিবেশনের আমন্ত্রণ পান। ১৯৪১ সালে শ্যাম সুন্দরের পরিচালনায় গুল বালোচ ছবির মাধ্যমে সঙ্গীতে পেশাগতভাবে অভিষেক ঘটে তাঁর। পরের বছর বোম্বের চলচ্চিত্র গাও কি গৌরী ছবিতে নৈপথ্য গায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটান। এছাড়াও রফি লায়লা-মজনু (১৯৪৫) এবং জুগনু চলচ্চিত্রে সংক্ষিপ্তভাবে, অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। লায়লা-মজনু চলচ্চিত্রে ‘তেরা জ্বালা’ কোরাস গানে তাঁকে অন্যান্য শিল্পীদের সাথে গাইতে দেখা যায়।

বোম্বে গমন….
১৯৪৪ সালে মোহাম্মদ রফি বোম্বে যান। তাঁর শ্যালক সেখানে তাঁকে ভেন্দী বাজারের মত ব্যস্ততম এলাকায় দশ ফুট বাই দশ ফুট কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করেন। শ্যাম সুন্দর তখন বোম্বে অবস্থান করছিলেন। তিনি রফিকে আবারো জিএম দুররানী’র সাথে দ্বৈত সঙ্গীতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। শ্যাম সুন্দরের গাঁও কি গোরী চলচ্চিত্রের আজি দিল হো কাবু মে তো দিলদার কি এ্যায়সী তাঈসী গানের মাধ্যমে মোহাম্মদ রফি হিন্দী চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করেন। ১৯৪৮-তে মহাত্মা গান্ধী নিহত হবার পর হুসনলাল-কৃষাণ-রফি ত্রয়ী একরাত্রিতেই কালজয়ী শুনো শুনো এই দুনিয়াওয়ালো, বাপুজী কি অমর কাহিনী গান রচনা করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহ্‌রু’র আমন্ত্রণে গানটি পুনরায় পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে শোনান। ১৯৪৮ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে নেহরু’র কাছ থেকে রৌপ্য পদক গ্রহণ করেন রফি। তিনি সুদীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে অসংখ্য নামকরা সঙ্গীত পরিচালকের দিক-নির্দেশনায় বিভিন্ন ধরনের গান গেয়েছেন। তন্মধ্যে অমর সঙ্গীত পরিচালক নওশাদের পরিচালনায়ই গান গেয়েছেন বেশি। এছাড়াও, ১৯৫০ এবং ১৯৬০ এর দশকে মোহাম্মদ রফি ওপি নায়ার, শঙ্কর জয়কিষাণ এবং এসডি বর্মনের সুরে অনেক গান গেয়েছেন।

১৯৭০ এর দশকে….
মোহাম্মদ রফি ১৯৭০ এর দশকের শুরুর দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তখন প্রথম কয়েক বছরে খুব কমসংখ্যক গানই রেকর্ড করতে পেরেছিলেন। এ সময় তিনি হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করেন। উক্ত দশকের মাঝামাঝি সময়ে রফি শীর্ষ স্থানীয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সঙ্গীত জগতে নিজের স্থান পুন:দখল করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঊষা খান্না’র গীত রচনায় হাওয়াস ছবিতে তেরি গালিওন মে না রাখেঙ্গে কদম আজ কে বাদ গান গেয়ে ফিল্ম ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে সেরা গায়কের পুরস্কার লাভ করেন। লতা মঙ্গেশকরের সাথে মোহাম্মদ রফির জুটিকে বলিউড ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ জুটি ধরা হয়। তাঁরা ১৯৪৯ সালে বারসাত ছবি থেকে শুরু করে একনাগাড়ে রফির মৃত্যু পর্যন্ত ৫০০ এর অধিক দ্বৈত গানে অংশ নেন। আশা ভোঁসলের সাথে রফির জুটিকেও অন্যতম শ্রেষ্ঠ জুটি বলা হয়। তাঁরা ১৯৫০-৮৭ সাল পর্যন্ত সঙ্গীতে যুক্ত ছিলেন (১৯৮০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এক দশক পর্যন্ত রফির গান মুক্তি পেতে থাকে)। আশা ভোঁসলে আর মোহাম্মদ রফি মোট ৯১৮টি দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, যা বলিউডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

গিনেস রেকর্ডে….
জীবনের শেষের বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে রফি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি লতা মঙ্গেশকরের গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম ওঠার বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করেন। ১৯৭৭ সালের ১১জুন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষকে লিখিত একটি চিঠিতে তিনি জানান যে, লতাজী সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করেছেন সত্য। কিন্তু তা গিনেস কর্তৃপক্ষের ভাষ্য মোতাবেক ২৫ হাজার গানের কম নয়। গিনেস থেকে পত্র প্রাপ্তির প্রত্যুত্তরে রফি ১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর চিঠিতে লিখেন যে, আমি খুবই মর্মাহত যে আমার অনুরোধ পুনর্বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি আমার নাম অন্তর্ভুক্তির বিপরীতে মিস লতা মঙ্গেশকরের দাবিকৃত বিশ্ব রেকর্ডটি অপসারণও করা হয়নি। ১৯৭৭ সালের নভেম্বরে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ রফি দাবি করেন যে, তিনি ঐ সময় পর্যন্ত ২৫ থেকে ২৬ হাজারের মতো গান গেয়েছেন। অবশ্য ১৯৯১ সালে মোহাম্মদ রফি এবং লতার নাম গিনেস বুক থেকে অপসারণ করা হয়।

এক নজরে রফি….
◾মোহাম্মদ রফি’র ডাক নাম ছিল ফিকু।
প্রথম উন্মুক্ত মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কুন্দন লাল সায়গলের সাথে। তখন রফি’র বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
◾১৯৬০ সালে মুঘল-ই-আজম চলচ্চিত্রে অ্যা মোহাব্বত জিন্দাবাদ সমবেত কোরাসটিতে তার সঙ্গে ১০০জন গায়ক অংশ নেন।
◾লক্ষ্মীকান্ত-পিয়ারেলাল জুটির সঙ্গীত পরিচালনায় ৩৬৯টি গানে অংশ নেন রফি। তন্মধ্যে ১৮৬টি ছিল একক।
◾আশা ভোঁসলে, মান্না দে ও লতা মঙ্গেশকরের সাথে সর্বাধিকসংখ্যক দ্বৈত সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
◾২৩ বার ফিল্মফেয়ার পদকের জন্য মনোনয়ন পান মোহাম্মদ রফি, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রে একটি রেকর্ড। তন্মধ্যে তিনি ৬ বার এ পদকে ভূষিত হন।
◾১৯৪৮ সালে রাজেন্দ্র কৃষাণের গীত রচনায় শুনো শুনো এ দুনিয়া ওয়ালো বাপুজি কি অমর কাহানি গানটি রফি’র কণ্ঠে ধারণের পর ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। এরই রেশ ধরে পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু’র আমন্ত্রণে তিনি তাঁর বাসভবনে গানটি পুনরায় গেয়েছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন….
রফি ও আব্দুল হামিদ বোম্বে থাকাকালে চল্লিশের দশকে দুই বোনকে বিয়ে করেন। রফি পূর্বে তাঁর চাচাতো বোনকে বিয়ে করেছিলেন। অভিবাসন আইনের দরুন তাঁকে ভারতে আনতে পারেননি। দেশ বিভক্তির ফলে তাঁর স্ত্রী পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থান করেন। প্রথম সংসারে তাঁর এক পুত্র সন্তান রয়েছে। বোম্বেতে অবস্থানকালে তিনি বিলকিস নামের এক রমণীকে ২য় বারের মতো বিয়ে করেন। তাঁদের ২য় সংসারে ৩ পুত্র ও ৩ কন্যা আছে। তিনি মদপান করতেন না। একজন ধার্মিক ও বিনয়ী ব্যক্তি হিসেবে সর্বত্র সকলের কাছে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি পরিবারের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ছিলেন। রেকর্ডিং রুম থেকে বাড়িতে এবং বাড়ি থেকে রেকর্ডিং রুমে আসা-যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাঁর জীবন। চলচ্চিত্রের যে-কোন ধরনের জলসায় তাঁকে কখনো অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ধূমপানও করতেন না রফি। তিনি ভোর ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ও একাধারে সঙ্গীতের রেওয়াজ বা সঙ্গীত চর্চা করতেন। প্রধানত ক্যারম, ব্যাডমিন্টন এবং ঘুড়ি ওড়াতেই তাঁর আগ্রহ লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

মৃত্যুবরণ….
১৯৮০ সালের ৩১ জুলাই রাতে উপমহাদেশের অমর সঙ্গীতকার মোহাম্মদ রফি’র মহাপ্রয়াণ ঘটে। আকস্মিকভাবে মাইওকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হৃদজনিত সমস্যায় ভুগে যখন রফি’র মৃত্যু ঘটে, তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তাঁর শেষ গানটি ছিল আস পাস ছবির শ্যাম ফির কিউ উদাস হ্যায় দোস্ত।লক্ষ্মীকান্ত ও পিয়ারেলালের রচনায় এ গানটি রেকর্ড করার কয়েক ঘণ্টা পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রফি। মৃত্যুর পর রফিকে জুহু মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বোম্বের সর্ববৃহৎ শবযাত্রা হিসেবে রফি’র শবযাত্রায় দশ সহস্রাধিক ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলে। মৃত্যুর পরে তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শাস্ত্রীয় ও আধুনিক গানের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মান্না দে রফি সম্পর্কে বলেন, ‘রফি এবং আমি সকল স্তরের গানই গেতে পারি এবং তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একজন ভদ্রলোক। তিনি আমার চেয়েও সেরা গায়ক ছিলেন এবং আমি অবশ্যই বলবো যে, কেউই তাঁকে স্পর্শ করতে পারবে না। তিনি যখনই যা চেয়েছেন, তা-ই করতে পেরেছেন। আমরা সকলেই একবাক্যে ও কৃতজ্ঞচিত্তে তা স্বীকার করি।’

সম্মাননা….
ভারত সরকার মোহাম্মদ রফি’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ও তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। রফি’র জীবনকে ঘিরে একটি প্রামাণ্যচিত্র বা ডকুমেন্টারী ভারতের চলচ্চিত্র বিভাগ নির্মাণ করে। মুম্বাইয়ের বন্দ্রা এবং পুনেতে রফি’কে স্মরণীয় করে রাখতে ‘পদ্মশ্রী মোহাম্মদ রফি চক’ নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

©️ আহমেদ জহুর
কবি, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক

azohur2002@gmail.com

ছবি : গুগল থেকে সংগৃহীত….

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD