রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

করোনা/ ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আতংকিত না হয়ে, সচেতন হই

করোনা/ ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আতংকিত না হয়ে, সচেতন হই

করোনা/ ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আতংকিত না হয়ে, সচেতন হই

করোনা/ ব্ল্যাক ফাঙ্গাসঃআতংকিত না হয়ে, সচেতন হই


“নাসিম আনোয়ার”
থমকে দাড়াই!
এক পা আর এগুলোম না, সাহেবের কথায়।


লাল পতাকা দেখে ভীষন ভয় পেয়ে গেলাম। সাহেব বললো ওদিকে যাওয়া যাবে না। ওটা যক্ষা হাসপাতাল। যক্ষা হলে রক্ষা নেই‼️
আজ যক্ষা রোগকে মরন ঘাতক কেহ আর বলছেন না। বিজ্ঞান যক্ষা জয় করেছে। বিজ্ঞানীরা যক্ষার প্রতিশোধক তৈরীতে সক্ষম হয়েছেন। নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে, যক্ষা শতভাগ নিরাময় হয়।


প্লেগ, ইবোলা, কলেরা, গুটি বসন্ত এক সময় এমই ভয়ংকর ঘাতক ছিলো। একটার পর একটা প্রতিষোধক আবিস্কার করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা।


কেহ কেহ চাঁদে জমি ক্রয় করেছেন। একদিন চাঁদেও বসতি স্থাপন হবে। হবে চাষাবাদ, ফসল ফলবে, পাখি ডাকবে। হয়তো রাখাল বাঁশী বাজাবে না। কৃষক আর রাখালের সামনে থাকবে, মনিটর চারিদিকে থাকবে সাউন্ড বক্স বা হেড ফোন। আমরা আধুনিকতার শেখরে পৌছে যাচ্ছি।


শুরুতে লাল পতাকার কথা বলেছিলাম
আবার সেখানে যাই, আমার বড় ভাই শেখ সামসুল হুদা মিন্টু বাড়ি এলেন। আমার মা খালেদা খানম সুষমা’র সে কি বুক ফাটা কান্না! বড়দা মা’কে শান্তনা দিয়ে বললেন, আত্মা আপনি চিন্তা করবে না। আমি নাসিমকে কুষ্টিয়ায় আমার ওখানে নিয়ে যাবো। এ কথা শুনে আমি তো মহা খুশি।


কুষ্টিয়া যাবো। কতো স্বপ্ন চোখের সামনে, ‼️
বড়দার সাথে বরিশাল শহরে এলাম। ইপসি কোম্পানীর জুতা কিনে দিলেন। নতুন জামা আহ্ কি আনন্দ আকাশে বাতাসে!
গুলবাগ হোটেল রাত কাটালাম। বড়দার কতো স্নেহ! কি খেতে মন চায় জানতে চাইলেন।


হোটেল থেকে নিচে নামালেন। বরিশাল শহরের ভূতের বাড়ি, ফকির বড়ি, চাউলা পট্টি, চর বাড়িয়া লজ্ সহ অনেক আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে ঘুরে, আবার হোটেলে এলাম। বিবির পুকুর পাড়ের হোটেল গুলবাগ। তৎকালীন সময়ের আধুনিক হোটেল ছিলো গুলবাগ। বর্তমান সময়ে বরিশালে খুব একটা যাতায়াত নেই। বলেই, প্রাণের শহরটির অলিগলি ভুলে গেছি।


বড়দার সাথে বাড়ি এলাম। আমি তো আর আমি নেই। পুরোপুরি স্মার্ট বয়। থার্টি ফাইভ এইটটি সিক্স টেরটন কাপড়ের নতুন জামা, ইংলিশ প্যান্ট ইপসি কোম্পানীর জুতা, সব সময় পরে একেবারে ফিট ফাট থাকি। ইংলিশ প্যান্টের পকেটে দু’ হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াই। রাতে ঘুমাবার আগে জুটা মুছে, তেল লাগিয়ে রাখি। নতুন জুতায় হালকা একটু সরিষার তেল মাখালে চকচক করে। নতুনই মনে হয় আবার।
বড়দার সাথে কুষ্টয়া যাবো। মা খুব খুশি। বাড়িতে আনন্দ উৎসবের মতো। মনে নানা প্রশ্ন উঁকি মারছে। কুষ্টিয়ার গেলে, মরবেল খেলতে পারবো? কার সাথে মারবেল খেলবো!
বরশি দিয়ে মাছ ধরতে পারবো? মারবেল বরশি গুল্লীবাস, পাবো কোথায় ⁉️
বড়দা’কে ভয় পেতাম না। ভীষন আদর করতেন,বড়দা। বড়দাকে প্রশ্ন করলাম, বড়দা কুষ্টিয়ায় মারবেল বরশি-গুল্লিবাস আছে তো ⁉️
বড়দা অবাবক হয়ে, পাল্টা প্রশ্ন করলেন, কেনো রে? উত্তরে আমি বললাম, খেলবো না!
বড়দা অনেকটা গম্ভীর গলায় বললেন, না! ওসব তোকে খেলতে হবে না। টেলিভিশন দেখবি। বাগঢুলী, ক্রমবোর্ড, ব্যাটমিন্টন, খেলবি।


এ কথা শুনে আমার মনটা বেশ, খারাপ হয়ে গেলো। চিন্তা করে দেখলাম, বড়দার সাথে গেলে এ সব খেলা আর হবে না। কুষ্টিয়ায় এসব নেই।


বিকেলে সেজেগুজে নতুন জামা জুতা পরে, ফিটফাট। মা জানতে চাইলেন, কই যাও? বললাম, বাজারে। উল্লেখ্য আমাদের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার শেখের হাট। বাড়ি সংলগ্ন বাজার। লঞ্চঘাট, টার্মিনাল। তৎকালীন সময়ে শেখের হাট থেকে সড়ক পথে দূর দূরান্তে যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিলো না।


একটার পর একটা লঞ্চ (যান্ত্রীক নৌ-যান) যাচ্ছে আর আসছে। ঘাটে কিছুক্ষণ সময় দাঁড়িয়ে দেখছি, যাত্রী নামছেন। আবার উঠছেন। মনে মনে বলি, লঞ্চে উঠে যাই। তবে যাবো কোথায়⁉️


বিকেল পাঁচটা কাঠবডি সেহাঙ্গল লঞ্চ ঘাটে এসে ভীড়লো। (তৎকালীন সময়ে বড় বড় স্টিল বডি লঞ্চ ছিলো না বলেই চলে) দৌড়ে সিড়ি বেয়ে উঠে গেলাম লঞ্চে। লঞ্চের এ মাথা থেকে ও মাথা, নিচে উপরে টেক শ্রেনী, মধ্যম শ্রেনী, প্রথম শ্রেনী এমন কি ইঞ্জিন রূমও দেখা শেষ।


আবার উপরে উঠি।মাস্টার ব্রিজের সামনে দু’পকেটে দু’হাত ঢুকিয়ে দাড়িয়ে আছি। কি একটা অনুভূতি শিহরন,‼️
পকেটে পয়সাও আছে।


বারো আনা, একটা আধুলি একটা সিকি।
প্রথমে দু’ আনার বাদাম কিনলাম। বাদাম চিবানো শেষ।আবার দু’আনার মালাই আইসক্রীম কিনলাম। আইসক্রীমের ভেতরে ঢোকানো কাঠি ধরে চেটে চেটে খাচ্ছি, আহ্ কি মজা! নারকেল চিড়া, মোয়া, রুটিকলা, আচার। হরেক রকম ফেরিওয়ালার কাছে যা যা ছিলো, সব কিনে খাওয়া শেষ।

তৎকালীন সময়ে লঞ্চে যাত্রীদের কাছে বেচা কেনার জন্য নানা ধরনের ফেরিওয়ালা উঠতেন।
উঠতেন ক্যানভাসার। ক্যানভাস করে তাবিজ, কবজ দাঁতের মাজন, ইদুর মারার ওষুধ সহ নানা ওষুধ বিক্রি করতেন। আবার অন্ধ মানুষ গান গেয়ে ভিক্ষা করতেন। যাত্রীরা মনোযোগ দিয়ে ক্যানভাসারদের কথা ও গান শুনতেন, আমিও এ সব উপভোগ করছি।


রাতের আধার। লঞ্চ ভীড়লো শেষ গন্তব্য, ভান্ডারিয়া ঘাটে। যাত্রীরা সব নেমে গেলেন । আমিও নামলাম ভান্ডারিয়া টার্মিনালে। এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। সব অচেনা। কোথায় যাবো? পয়সাও শেষ! কি করি!!
হায় কেনো যে এলাম⁉️


মধ্য রাত।
খিদের পেট জ্বলছে, খাবো কি?
পা থেকে জুতা মোজা খুলে ফেললাম। মোজা পকেটে ঢুকিয়ে জুতা নিয়ে হাটছি। টার্মিনালে কয়েকজন ফেরিওয়ালা আছেন। যাত্রীও আছেন। টার্মিনালের একপ্রান্তে পেট মোটা সাদা লুঙ্গি পরা একজন লোক বসে আছেন। তিনি পান চিবুচ্ছেন। কুলির সর্দার হবে হয়তো। তাঁর পাশে দাঁড়াতেই প্রশ্ন করলেন কি চাই? আমি জুতা দেখিয়ে বললাম বিক্রি করবো। তিনি আমার পা থেকে মাথা দেখলেন। আবার প্রশ্ন করলেন, চুরি করেছিস ⁉️


মাথা নাড়লাম,পকেট থেকে মোজা বের করে, দেখিয়ে বললাম না। এটা আমার নিজের জুতা। তিনি আবার জুতা নেড়েচেড়ে দেখলেন। জানতে চাইলেন কতো দেবো? আমি বললাম জানিনা আপনি যা দেবেন, তা-ই নেবো। দশ টাকা দিবি? আমি বললাম দেন। তিনি টাকা দিলেন। মনে সাহস এলো। টাকা থাকলে মানুষের সাহস বেড়ে যায়। আমার ভীষন সাহস বেড়েছিল।
ভান্ডারিয়া টার্মিনাল সংলগ্ন একটি খাবার হোটেলে ঢুকি। কতো পদের খাবার ‼️


আমি ইলিশ মাছ দিয়ে পেটপুরে ভাত খেলাম। বড় সাইজের এক পিস মাছ, আর মাছের ডিম একপিস। দেড় প্লেট ভাত। মোট বিল হলো, দু’ টাকা পঁচিশ পয়সা। আবার টার্মিনালে এলাম। যাত্রীদের বিশ্রামগারের লম্বা বসার জায়গায় ঘুমিয়ে গেলাম।
যাত্রীদের কোলাহলে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ভোর থেকেই বিভিন্ন গন্তব্যে লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। আমি মুখ হাত ধুইয়ে, নাস্তা করলাম। টাকা আছে পকেটে। কোথায় যাবো! বুঝে উঠতে পারি না!! একটি লঞ্চে উঠে চলে এলাম হুলার হাট। হুট করে নেমে গেছি লঞ্চ থেকে কেহ টিকেট চায়নি। পিচ্ছি তো! পিচ্ছিদের টিকেট লাগে না।


দুপুরের দিকে গাজী রকেটে উঠলাম। ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল জাহাজ। বৃটিশ আমলের ১৮ শ’ শতকের ইংল্যান্ডের তৈরি।
ঝালকাঠি নেমে পড়লাম। টাকার গরমও শেষ। আবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠি থেকে শেখের হাটে ফিরলাম।
বাড়ি পৌছে, ঘরের পাশে ঘুর ঘুর করি। আমার বোন হেপী আপা, আময় দেখে, আম্মা বলে চিৎকার করে উঠলেন, এই তো নাসিম‼️


আমি তো নিশ্চিত,মা আজ পেটাবেন। আব্বাকে দেখে হাউ মাউ করে কেঁদে দেই। আব্বা হাত ধরে ঘরে নিয়ে এলেন। মা কয়েকবার লাঠি নিয়ে তেড়ে আসলেও আব্বার জন্য পেটাতে পারেন নি। আব্বা বকা ঝকা করতেন। কিন্তু মারতেন না।💔
রাতেই জানলাম, বড়দা সকালে আমাকে না পেয়ে, তাঁর কর্মস্থল চলে গেছেন।


কিছুদিন পর বড়দা আবার এসে আমাকে কুষ্টিয়ায় নিয়ে এলেন। ভর্তি করলেন, মিল পাড়ার মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠে। আমি চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র। বছরের শেষে পরীক্ষা দিয়ে পঞ্চম শ্রেনীতে উঠে গেলাম। বড়দা ছিলেন, মোহেনী মিলের বড় কর্মকর্তা। বাংলো, গাড়ি নানা রকমের সুযোগ সুবিধা। সব বাড়িতে তৎকালীন সময়ে টি.ভি ছিলো না। সত্তুর দশকের কথা। বড়দার সাদা কালো টিভি ছিলো। অনেক অফিসারের ছেলে মেয়েরা টিভি দেখতে আসতো।


শ্রেনী সাথী সাহেব। সাহেব মিলপাড়া সংলগ্ন আমলা পাড়ার বাসিন্দা। কাশেম কন্ট্রাক্টরের ছেলে। কাশেম কন্ট্রাক্টর তৎকালীন সময়ে কুষ্টিয়ায় প্রভাবশালী মানুষ। প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার সাহেবের বাড়িও সাহেবদের বাড়ি সংলগ্ন। আমার বন্ধু সাহেবদের বাড়ি।ওর সাথে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যেতাম। সাহেব লাল পতাকা আর যক্ষা হাসপাতাল দূর থেকে দেখিয়েছিলো। তৎকালীন সসয়ে যক্ষা হাসপাতালে লাল পতাকা উড়াতো। ওটা ছিলো সাধারনের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা। যক্ষা এলে রক্ষা নেই। এখন যক্ষা নিরাময় ব্যধি। বিজ্ঞান যক্ষাকে জয় করেছে। আমরা ক্যান্সার, করোনা ঘাতকেও একদিন মেরে পেলবো আমরা।
আমার দু’টো সন্তান, নাজিফা শেখ নেহা আর শেখ সাফা নুহান। মেয়ে নেহা, কলেজ ছাত্রী আর ছেলে নুহান স্কুল ছাত্র। ওরা এক বছরের বেশি সময় ঘর বন্দী। দিনরাত ছটফট করে। কোথাও বেরুতে পারে না।


ইন্টার নেট একমাত্র ভরসা। কম্পিউটার বা মোবাইলে গেম খেলা, এখন চরম নেশায় পরিনত হয়েছে।
ওদের মা আমার স্ত্রী ফারহানা। গরম মেজাজের মানুষ। ছেলে মেয়েকে বেশি সময় মোবাইল দিবেন না। ছেলে মেয়ে অনলাইনে ক্লাশ করার কথা বলে, মোবাইল ফোনটি নিয়ে গেলেও, ওৎ পেতে থাকেন। ছেলে মেয়ে ক্লাশ করছে না কি ⁉️ না কি গেম খেলছে, না আবার গুগলে সার্চ দিয়ে অন্য কোথাও ঢুকলো কিনা? মহা বেকায়দা এই গরম মেজাজের মহিলাকে নিয়ে।
তার মাথা গরম থাকে প্রায় সব সময়ই। ছেলে কোথাও আবার, কারো সাথে বেরুলো কি না!


চব্বিশ মে বিকেল সাড়ে পাঁচটা। আমার স্ত্রী ফারহানা চেঁচিয়ে উঠলেন‼️
এ-ই ছেলে কোথায়? আমি বললাম, কোথায় আর যাবে⁉️ ছাদে খেলছে হয় তো।
তিনি আরো চেঁচাতে শুরু করলেন। না ছাদে নেই শুনেছি। তুমি যাও, এক্ষুনি। আমি দৌড়ে ছাদে উঠে দেখি, ঠিকই ছাদে খেলছে। হাফাতে হাফাতে আবার আমার ফ্ল্যাটে এসে বলি। তোমার সন্দেহ প্রবনতা আর গেলো না। উত্তরে আমার ওপর চড়াও হয়ে বললেন, না আমার বিশ্বাস নেই। কার সাথে কোথায় বেরিয়ে যায় ঠিক আছে নাকি⁉️


আমি যে ভবনে বসবাস করি। সে ভবনটি আট তলা ভবন। আমি পাঁচ তলার একটি ফ্লাটে বসবাস করি। এ ভবনে চল্লিশটির মতো পরিবার রয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো, ছেলেটিকে কারো সাথে তিনি মিশতে দেন না। তবু সমবয়সী দু একটি ছেলের সাথে খেলা করে। তাও আবার অনেক বিধি নিষেধের মধ্যে।


আমার ওপর চলে অনেক জুলুম অত্যাচার😭
ঘরের বাইরে গেলে, দূর থেকে চিচিয়ে ওঠে বলবেন ওয়াশ রূরে যাও কাপড় বদলাও। জিনিসপত্র সব ডিটারজেনের মধ্যে ফেলো। এমন একটা ভান করবেন,করোনা যেনো তাঁকে চেপে ধরেছে 😀
শুধুই আমার স্ত্রী নন। করোনা অনেকের মধ্যে এখন আতংক। এটা এখন একটি মানসিক রোগও বটে। করোনার সাথে স্নায়ু রোগের সম্পর্ক রয়েছে। যা চিকিৎসায় সেরে উঠছে না। করোনা আর এ পৃথিবী থেকে আর কোনোদিনই বিদায় নেবে না। তবে প্রতিষোধক বেরুবে।


সচেতনার কোনোই বিকল্প নেই। আতংকিত হয়ে, ভয় পেয়ে কোনো লাভ হবে না। আমাদের এই ঘাতকের সাথে লড়াই করে বাঁচতে হবে। হতে হবে সচেতন। বিগত দিনে করোনার মতো অসংখ্য ভয়াবহ ঘাতক পৃথিবীতে এসেছে। অসংখ্য মানুষের জীবন কেড়ে নিলেও বিজ্ঞানীরা মরন ঘাতকদের পরাজিত করেছেন। আবিস্কার করেছেন প্রতিষোধক। একদিন ক্যান্সারের প্রতিষোধক, করোনার প্রতিষেধক ঠিকই আবিস্কার হবে।


আমরা সচেতন থেকে ঘাতকের সাথে লড়াই করবো প্রতিনিয়ত বাঁচার জন্য ।
প্লেগ, ইবোলা কলেরা, যক্ষা, গুটি, বসন্ত এবং করোনায় পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় এ পর্যন্ত প্রায়, পয়ত্রিশ লাখ মানুষ মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমাদের সচেতন হতেই হবে। সচেতনার কোনই বিকল্প নেই।
প্লেগ: এর উৎপত্তি চীন থেকে। ১৯৩৪ সালে, এই রোগে ৫০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। দুই হাজার বছর আগে ১০ কোটি মানুষের প্রাণ হারায়। ১৩৪৭-৫১ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যার ৪৫ কোটি থেকে ৩৫ কোটিতে নেমে আসে।


ই বোলা: ১৯৭৬ সালে উৎপত্তি হয়। ২০ হাজারের মতো আক্রান্ত। ৭ হাজার ৮শ জন মারা গেছেন।
কলেরা: ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় শুরু হয়। ভারতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। স্পেন আফ্রিকা ইন্দোনেশিয়া, চীন, জাপান, ইতালি, জার্মানি, আমেরিকায় সব মিলিয়ে ২২-২৩ লাখ লোক মারা যায়।
যক্ষা: গত শতকে যক্ষা রোগেও ২০ কোটির বেশি লোক মারা যায়। ১৮২০সালে , বিশ্বে এক কোটি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ১৫ লাখ মানুষ মারা যায়


গুটি বসন্ত: ৩০০০ বছর আগে মিশরীয় মমিতে গুটি বসন্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। ৭৩৫-৭৩৭ এর ভেতরে জাপানে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ মারা যায়।


করোনাঃ ২০১৯ সালে শুরুতে মধ্য চীনের উহান শহরে আক্রান্ত ৩ কোটি ৬৭ লাখ প্রায় মারা গেছে ৩৫ লাখ। সম্প্রতি ভারতে ব্লাক ফাংগাস নামের একটি ভাইরাস দেখা দিয়েছে। হয়তো আরো ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটবে। অতএব আতংকিত হবো না সচেতন হই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD