সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১১:১৮ অপরাহ্ন

১০২ তম জন্মদিনে সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ -সেলিম ভুইয়া

১০২ তম জন্মদিনে সত্যজিৎ রায়কে স্মরণ -সেলিম ভুইয়া

চলচ্চিত্র জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ১০২তম জন্মদিন
************************************** বিনম্র শ্রদ্ধা।

বিশ্বের বুকে বাংলা চলচ্চিত্রকে যিনি উচ্চ আসনে নিয়ে গেছেন, চলচ্চিত্রের পরিচালকের মধ্যে যাঁর নেই সীমাবদ্ধতা, চলচিত্রের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় যাঁর বিচরণ,তিনি বাংলা ভাষায় তৈরি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।আজ তাঁর ১০২তম জন্মদিন।

তিনি লেখক, গীতিকার, সুরকার,চিত্রশিল্পী,গ্রাফিক ডিজাইনার, কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবেও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।সত্যজিৎ রায়ের লেখা সাহিত্যকর্ম থেকে তৈরি চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে গবেষণা চলছে। সত্যজিৎ রায়ের কারণেই বাংলা ভাষায় তৈরি চলচ্চিত্র পৃথিবীজুড়ে সম্মানের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

সাহিত্যিক, চিত্রনাট্যকার,শিল্পনির্দেশক, সংগীত পরিচালক বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষের ভিটাবাড়ি ছিল বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া গ্রামে।

১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন কবি, সাহিত্যিক ও কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। পিতা সুকুমার রায়, তিনি ছিলেন, শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার,প্রাবন্ধিক,নাট্যকার,সম্পাদক ও আলোকচিত্রী।

বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া গ্রামের কৃতি সন্তান ছিলেন সুকুমার রায়। সুকুমার রায় রয়াল ফটোগ্রাফিক সোসাইটি অব গ্রেট ব্রিটেন-এর ফেলো ছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের মাতা সুপ্রভা রায়,তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও হস্তশিল্পে পারদর্শী।

সত্যজিৎ রায়ের শৈশবের পাঁচ বছর কাটে উত্তর কলকাতার ১০০ নম্বর গড়পাড় রোডে।আড়াই /তিন বছর বয়সে পিতাকে হারান সত্যজিৎ রায়। এর দুই -তিন বছরের মধ্যে মামার বাড়িতে দক্ষিণ কলকাতার বকুলবাগানে চলে আসে। সেখানে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে ভর্তি হয়।মা সুপ্রভা দেবীর সান্নিধ্যেই বড় হন সত্যজিৎ রায়।

সত্যজিৎ রায়ের দাদা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন প্রখ্যাত লেখক, শিশু সাহিত্যিক,শখের জ্যোতির্বিদ,বেহালাবাদক,সুরকার, চিত্রকর, আলোকচিত্রী, ব্লক ডিজাইনার এবং শিশুতোষ পত্রিকা সন্দেশ (১৯১৩)-এর সম্পাদক।সন্দেশ পত্রিকা তিনি শুরু করেন পরে পুত্র সুকুমার রায় ও নাতি সত্যজিৎ রায় সম্পাদনা করেন।

সত্যজিৎ রায় ১৯৫৫ সালে পথের পাঁচালী সিনেমা দিয়ে রূপালি জগতে পরিচালক হিসেবে পথ চলা শুরু। স্ত্রী বিজয়া রায়।তাঁদের দম্পতি জীবনের একমাত্র ছেলে সন্দীপ রায়। ছেলে সন্দীপ রায় ১৯৫৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ছেলেও ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক।

১৯৫৭ সালের ‘মাদার ইন্ডিয়া ‘ ভারতীয় প্রথম চলচ্চিত্র হিসাবে শ্রেষ্ঠ বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পায়।১৯৮৮ সালে মিরা নায়ার পরিচালিত ‘ সালাম বোম্বে ‘ ছবিটি দ্বিতীয় ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কার মনোনয়ন লাভ করে।তৃতীয় ভারতীয় ছবি হিসেবে অস্কার মনোনয়ন লাভ করে ‘লগান’। তিন-তিনবার মনোনয়ন পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্র অস্কার জিতে নিতে পারেনি। তবে প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্রকার হিসেবে সত্যজিৎ রায় বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার ‘অস্কার’ জিতে নেন।

চার্লি চ্যাপলিনের পর সত্যজিৎ রায়েরই পৃথিবীর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব যাকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
১৯৮৭ সালে ফ্রান্সের সরকার তাঁকে দেশটির বিশেষ সম্মানসূচক পুরস্কার লেজিওঁ দনরে ভূষিত করেন। আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

জানাযায়, ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি জে কিমারে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বিজ্ঞাপন ডিজাইনের কাজ করতেন। একই সময় তিনি প্রকাশনা সংস্থা ‘সিগনেট প্রেস’ সঙ্গে জুড়িয়ে পড়েন সেখানে প্রচুর বইয়ের প্রচ্ছদ ডিজাইন করেন। যার মধ্যে রয়েছে জীবনানন্দ দাশের
‘বনলতা সেন’ ও ‘রূপসী বাংলা ‘র প্রচ্ছদ, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘চাঁদের পাহাড় ‘ এবং জওহরলাল নেহেরুর ‘ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া ‘সহ বহু বইয়ের প্রচ্ছদ।

কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

পোস্ট, মঙ্গলবার ১৯ বৈশাখ ১৪৩০#১১ শাওয়াল ১৪৪৪#২ এপ্রিল ২০২৩# সেলিম ভূঁইয়া,পাইকরতলা, রায়টুটী, ইটনা, কিশোরগঞ্জ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD