রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন

সুখ – রুপা খানম

সুখ রুপা খানম।

বিয়ের সাত দিন মাত্র ।বিয়ের আগে বন্ধু বান্ধবীদের কাছে শুনেছে হানিমুন করতে স্বামী স্ত্রী চলে যায় বিয়ের পর পর দূরে কোথাও।সেটা হোক নির্জন সমুদ্র অথবা নদীর পার যেখানে প্রতিদিন সূর্য উঠা আর ডোবার সময় রোমাঞ্চকর একটি দৃশ্যের অবতরাণা হয়।সূচী এমনই অনুভবের কথা শুনেছে তার বিবাহিত বন্ধুদের কাছে।আবার শরৎচন্দ্রের বই পড়ে কিছু জেনেছিল।

কিন্তু অন্তু সে তো একদম আলাদা! বিয়ে হয়েছে এক সপ্তাহ হানিমুন করতে সমুদ্রর পাড়ে এসেছে , অথচ একা বসে বীচের পাশে সূচী কত কি ভাবতে থাকে।ওর একাকিত্ব ওকে বার বার অচেনা সমুদ্রের অচেনা সীমামায় নিয়ে যায় । যার দৃশ্য বা গল্পে , সূচী কোন কূল কিনারা পায় না ।যে মেয়েটি আগে বড্ড অভিমানী ছিল, কথায় কথায় কাঁদতো, সেই মেয়েটি আজ ভীষণ পরিণত ।কান্না চেপে আজ হাসতে শিখে গেছে।পা দুটো বালুর উপর কখনো কখনো সমুদ্রের ঢেউ এসে ওর ভাবনা এলো মেলো করে দিয়ে আবার ফিরে যায় । অন্তুকে ওর কাছে বড্ড অচেনা মনে হয় ।অন্তু তার মত করে ফোনে বন্ধুদের সাথে কথা বলে চলছে।ওর মাঝে নতুন বউ বা নতুন বিয়ে হওয়ার তেমন কোন খুশী সূচী খুঁজে পায় না।তবে কি অন্তু খুশী নয় বিয়ে করে ?ভাবনা কেবলই সূচীকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ।অথচ বাবা তাকে অনুরোধ করেছিল আমাকে সুখে রাখার !নতুন বিয়ে হয়েছে সূচী তাই লজ্জায় কিছু বলতে ও পারে না।সূচী ভাবে এ রোবোর্টের মত মানুষের পাশে বীচের কাছে এসে শুধু শুধু সাতটি দিন চলে গেলো !একাকী বসে স্বপ্নের জাল বুনা ছাড়া আর তো কিছু করার নেই ।

হোটেল রুমে ফিরে গিয়ে সূচী অন্তু কে বলে,সাত দিন তো পার হলো ,চলো আমরা বাসায় ফিরে যাই । অন্তু হঠাৎ সূচীর কথায় প্রচন্ড রিএ্যাক্ট করে ।তুমি না একটা বোরিং তোমাকে নিয়ে না কিছু করা যায় না । ধ্যাৎ কেন যে তোমার মত আনকালচার্ড ,গাইয়া মেয়েকে বিয়ে করেছিলাম।তাহলে পস্তাতে হোত না। আজই সুইটকেস গুছিয়ে নিবে বলে অন্তু বিরক্ত হয়ে হন হন করে রুম থেকে বের হয়ে যায় ।
বেশ অনেক ক্ষণ অন্তু আর ফিরে আসে না ।সূচী এবার ভয় পায়। একা হোটেল রুমে, সন্ধ্যা হতে শুরু করেছে।রাত আট টা দরজায় কলিং বেলের শব্দ।সূচী দৌড়ে দরজা খুলে দেয় ।দরজা খুলে দিলে অন্তু সূচীকে বলে তুমি আমার জীবনে বাধা ।আমি তোমাকে বিয়ে করেছি এটা আমার একটি ভুল সিদ্ধান্ত ।তোমার আর আমার সব কিছুতে অনেক পার্থক্য ।আমি বউ হিসাবে মানতে পারবো না তোমাকে । সূচী বুঝতে পারে অন্তু মদ খেয়ে ঘরে ঢুকেছে ।নিজের এলোমেলো কথা ছুঁড়ে দিচ্ছে সূচীর দিকে ।নিজের কোন ব্যালেন্স ছিল না, বারবার পড়ে যাওয়ার মত অবস্থা। সূচী অন্তু কে ধরে বিছানায় শুইয়ে দেয় ।অন্তু ঘুমিয়ে পড়ে।সূচী আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না। কেদেঁ কেঁদে ঘুমিয়ে যায় একই রুমেই সোফার উপর ।

একটি রুম নতুন বিবাহিত দুটি মানুষ কত পর একজন থেকে আরেকজন।হাতে মেহেদী পরা নতুন বউ অথচ কত অসহায় হয়ে হয়ে রুমের মধ্যে আপনজন দের কথা ভাবছে । কত আশা ছিল সূচীর বাবা র । তিনি বলতেন মেয়ে আমার যার ঘরে যাবে ঘর কে আলোকিত করবে । বাবা আজ কি বুঝতে পারছে তার আদরের দুলালী কত কষ্টে দিন অতিবাহিত করছে?বিয়ের রাতে অন্তুর হাতে হাত তুলে দিয়ে বাবা বলেছিল,তুমি কষ্ট দিও না বাবা আমার মেয়েকে।অনেক যত্ন করে ওকে ছোট বেলা থেকে মানুষ করেছি।একটি মাস্টার্স ডিগ্রি মেয়েকে অন্যের হাতে তুলে দিতে বাবা কত কিই না বলছিলেন অন্তু কে । কেন বাবা তোমার মেয়ে প্রথম হয়ে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি পাশ করেছে ।তাকে কেন সুখে রাখার জন্য অনুরোধ করছো ? আজ সুচী বুঝতে পারছে সুখ টা আপেক্ষিক ।কোন ডিগ্রীর কারনে বা ডিগ্রী না থাকলে কোন যায় আসে না ।

পরের দিন সকালে উঠে ই অন্তু আবার চেঁচামেচী শুরু করে রুম ক্লিনারের সাথে ।তাকে খাবার পানি ফুটিয়ে দেওয়া হয় নাই কেন? কোন ভাবেই সূচী অন্তু কে চুপ করাতে পারছে না ।এক পর্যায়ে সূচী বলে উঠে তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো। অন্তু রেগে সূচীর সাথে আরো দুর্ব্যবহার করতে লাগলো । এ কোন জীবনে এসে সূচী পড়েছে হিসাব মিলাতে পারছে না ।তাহলে দুটি জীবন এক সাথে করার জন্য শুধু বিয়ে নামের আনুষ্ঠিকতার মাধ্যমে এতো আয়োজন, এতো অতিথি ডাকা কেন?অথচ তাদের দুজনারই মধ্যেই কোন সম্পর্ক তৈরী হয় নাই !তাহলে বিশাল হল ভাড়া করে ধুমধাম করে বিয়ে কি দরকার! দুটি জীবন এক হলেই তো সব শেষ হয়ে যায় না ।বুঝাপড়া অথবা সন্মান একজন আরেক জনের প্রতি ভালাবাসা এটাই তো মুখ্য বিষয় দুটি জীবনের ।সূচী কেবলই ভাবছে বিয়ের সাত দিনের মাথায় সংসার ভেঙে ফিরে গেলে এই সমাজ কি বলবে সূচীর দোষ ।আঙ্গুল উচিঁয়ে বাবাকে লজ্জা দেবে।কিন্তু পৃথিবীর মানুষ জানবে না অন্তুর মনোজগতে বোধের অভাব কেবল সূচীর জন্য। শুধু চারটি হাত এক হলে কি সংসার নামক অচেনা পৃথিবী সুখে ভরে যায় ?বাসায় গিয়ে বাবা কে সব বলা উচিত কিনা সূচী সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না ।তাহলে এখন ও কি অন্তুর সাথে ওর থাকা উচিত?কোন কিছু আর সূচী ভাবতে পারে না । শুরুতে সবার মুখে মুখে একই কথা : এতো ভাল বিয়ে হয়েছে মেয়েটার! ভাল বিয়ে মানে তো পাত্র শিক্ষিত,ভাল চাকুরী করে ।এসব মেনে নিয়েই দুজনের সংসার করতে হয় ।সবাই যা করে তাই তো নিয়ম। তাহলে সূচী আর অন্তুর বেলায় ব্যতিক্রম হবে কেন? তাই ডিভোর্স করার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে।সূচী আর চিন্তা করতে পারছে না ।বাসায় ফিরে সূচী চেষ্টা করে নিজেকে খাপ খাওয়াতে ।

শশুড়বাড়ি মানে নিজেকে আরো বেশী প্রমান করা সে একটি ভাল বউ ।ভাল বউয়ের পরীক্ষায় প্রায় চার মাস পার হয়ে যায় ।এরই মধ্যে টের পায় সূচীর শরীরের মধ্যে কিছু পরিবর্তন । খাওয়ার রুচী চলে গেছে ।সারদিন মাথা ঘুরাতে থাকে। একদিন মাথা ঘুরে বিছানায় পরে যায়। বাড়ির মধ্যে বড় ছেলের বউ কিছুটা আপন হয়েছে এই কয়েক মাসে ।তিনি কাছে এসে বুঝতে পারলো সূচী মা হতে চলেছে।অন্তুকে জানানো হলো ।অন্তু শুনে খুশী হলো,কি দু:খ পেল বোঝা গেল না । ডাক্তার কল করে সূচী কে দেখানো হলো। সূচী সব জেনে কান্নায় ভেঁঙে পড়ে ।বড় বউ সূচী কে বুঝাতে লাগলেন,এতোএকটি মেয়ের স্বপ্ন, কিন্তু সূচী তুমি কাঁদছো কেন ? এ তো খুশীর খবর । সূচী যেন আর একটি ধাক্কা খেলো ।যাকে আজও বুঝা হয়ে উঠেনি, যার সাথে মনের কোন মিল নেই তার বাচ্চার মা হবে সূচী -এ কতটুকু আনন্দ সে শুধু সূচী ই জানে! অন্তুএখনো তেমন ভালবাসার বন্ধন তৈরী করতেপারেনি। তার মধ্যে বাচ্চা ভাবতে পারছে না।

বাচ্চাটি যখন দুনিয়ার মুখ দেখলো ,সূচী চেষ্টা করলো সব অপারগতাকে পিছে ঠেলে সামনে এগিয়ে চলতে ।ধীরে ধীরে বাচ্চা টি বড় হয়ে এখন কলেজে পড়ছে ।মেয়ে হয়েছিল।নাম রেখেছে মিথিলা। সব কাজে সূচী কে দোষারোপ করাটাই যেন অন্তুর ভাললাগা।মেয়ে বাচ্চা এটাও ছিল সূচীর দোষ ।একদিন অফিস থেকে এসে অন্তুর অনবরত চিৎকার ,কিছুই পাইনা হাতের কাছে,কোথায় আমার রিডিং গ্লাস ? সূচী দৌড়ে এসে খুঁজে দেয়।অন্তুর যেন ঝগড়া থামে না ,রোজ রোজ বাড়িতে বসে বসে কি করো ঠিকমত কিছু পাই না ।বাড়িতে শুধু খাও আর ঘুমাও। সূচী সাথে সাথে জবাব শুধু যদি তাই করতাম তাহলে তিন বেলা খাবার আর ঘরবাড়ির সকল কাজ কে করে? অন্তুর জবাব হাঁড়ির রান্না আর বাড়ির কাজ এটা কোন কাজ হলো? এরই মধ্যে মেয়ে এসে বললো,মা কাল যে তোমাকে বলেছিলাম আমার দুটো বন্ধু আসবে তুমি কি রান্না করেছো ওদের জন্য ? সূচীর উত্তর আমরা ঘরে আজ একটু বেশী রান্না করেছি তোমার বন্ধুরা খেতে পারবে ।মিথিলা চেঁচিয়ে উঠে বলে,মা তোমাকে না কোরমা রান্না করতে বলেছিলাম।সূচী বললো,মা কোরমা করিনি,চিকেন দিয়ে নতুন একটি রেসিপি তৈরী করেছি তোমার বন্ধুরা পছন্দ করবে।মিথিলা রাগে গট গট করে চলে গেল রুম থেকে । সাথে সাথে অন্তুর জবাব, আমার মেয়ে যদি তার বন্ধুদের খুশী করতে না পারে তাহলে তোমার এ বাড়িতে জায়গা নেই । তোমাকে দিয়ে আমি কি করবো? আমার মেয়েকে পর্যন্ত খুশী রাখতে পারো না।

সূচী কিছু আর বললো না ।শুধু ভাবতে লাগলো ,এবার তার সময় হয়েছে এখন থেকে সরে দাঁড়াবার। পরের দিন সকালে অন্তুর চিৎকার ,সূচী আমার খাবারের ব্যাগ দাও , আমার আজ অফিসে দেরী করে দিলে আবার ! সূচী সূচী কোথায় তুমি । কানে কি শুনতে পাওনা? কি ব্যপার বাড়ি এতো নিরব কেন ? কই গেল এই সাত সকালে! মিথিলাকে গিয়ে ডাক দিয়ে অন্তু যখন জিজ্ঞেস করলো তোমার মাকে দেখেছো ? মিথিলা বলে,বাবা ঘুমাতে দাও । মা কোথায় আমি কি করে জানবো। যাও তো এখান থেকে ।অন্তু এদিক ওদিক খুঁজে বিড় বিড় করে বলতে লাগলো ,যাবে আর কোন চুলায় বাবার বাড়ি ছাড়া।

অন্তুকে বিয়ের পনেরো বছর পর প্রথম না খেয়ে অফিসে যেতে হলো। অফিসে গিয়ে সূচীর বাবার বাড়ি কল করলে বাবা বলে সূচী তো আসেনি ।কেন বাবা সূচীর কি আসার কথা ছিল ? অন্তু বললো ,না এমনেই জিজ্ঞেস করলাম ।সূচী হয়ত মার্কেট গিয়েছে আমি ভেবেছি আপনার ওখানে,এই বলে ফোন রেখে অন্তু ভাবতে লাগলো । সূচী কোথায় যেতে পারে ? ও তো ঘর থেকে তেমন বের হতো না । তাহলে গেল কোথায় । যাক কোন দেশে আমার কোন যায় আসে না ।

কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত শরীর ।এককাপ গরম চা খেতে ইচ্ছে হচ্ছে। সূচী তো প্রতি দিন আমি অফিস থেকে এলে গরম চা আনতো ,তার সাথে নাস্তা ও কিছু থাকতো । যাক এখন থেকে আমি নিজেই চা বানাবো । পরের দিন অফিসে যেতে কাপড় ইস্ত্রি করতে হবে , গরম খাবার নিতে , নিজে নাস্তা তৈরী করে খেয়ে যেতে হবে কত কাজ । উফ্ আর পারছি না । যাকগে কোন মতে কাপড় পরে চলে গেল অন্তু অফিসে । কিছুক্ষণ পর কল এলো মিথিলার ।বাবা আমি কি খাব ? বাবার উত্তর তুমি ডিমের ওমলেট করে খাও । তোমার মা যেটা করে দিত । বাবা ওটা তো মা করতো ।আমি তো জানি না । আমার ক্ষিদে পেয়েছে ।বলো বাবা কি খাবো ।দুধ সিরিয়াল কিছু একটা খেয়ে নাও বলে ফোন রাখলো । আবার কল বাবা ঘরে সিরিয়াল নেই ।তুমি কেন সিরিয়াল নেই ।তুমি কেন সিরিয়াল এনে রাখোনি। মা থাকতে তো মা সব কিছু ঘরে এনে রাখতো ।ওকে তাহলে মার্জারিন দিয়ে বেগেল খাও ।না বাবা ওটা খেতে ইচ্ছে করছে না । তাহলে ব্রেড আর পিনাট বাটার জেলী খাও ।না ওটাও খাবো না ।বাবার এবার আর ধৈর্য নেই, মেনু বলার মেয়ে কে!একটু রাগ হয়ে বলে ফেললো মিথিলা আমি একটা মিটিং এ আছি তুমি আমাকে বিরক্ত করবে না বার বার ফোন করে । আমি আর কথা বলতে পারবো না ,বলে ফোনটা রেখে দেয় অন্তু । দুপুরবেলা অন্তুর খুব খিদে পায় ।পাশে একটা হোটেল সেখানে গিয়ে কিছু কিনে খেয়ে নেয় ।দুপুরে মেয়েকে অন্য কোথাও খেয়ে নিতে বলবে।মেয়ে তো রাগে বাবাকে বলে ,তোমার জন্য মা আজ বাড়িতে নেই ।কয়েকদিন এলোমেলো কেটে গেলো বাবা মেয়ের জীবন ।বাড়ির সামনের জায়গায় আর জুতা স্যানডেল সাজানো গুছানো নেই । কাপড় চোপড় নেই আলমিরার মধ্যে থরে থরে সাজানো ।এদিক ওদিক শুধু এলো মেলো সব আসবাব পত্র। অথচ সূচী বাড়ি টি একটি ছবির মত করে সাজিয়ে রেখেছিল।কোথাও কোন ধূলো ছিল না ।আজ তার উপর ধূলার স্তর ।অন্তু বুঝতে পেরেছে এতকাল কত আরামে সে বাহিরের কাজগুলি করেছে ।ঘরে এসে সবকিছু গোছানো থাকতো ।

আমাকে আর মিথিলা কিছু করতে হতো না । মাঝে মাঝে সূচী মিথিলাকে কিছু সংশোধন করতে বললে আমি রাগ হতাম সূচীর উপর । অথচ সূচী কখনো রাগ হতো না মিথিলা করতো না ।ওকে শাসন করার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল অন্তু ।এতো কিছু সুন্দর করে রাখতো অক্লান্ত পরিশ্রম করেই ।আমরা কখনোই বুঝি নি সূচীর গুরুত্ব ।অন্তু মাস খানিক পর খুঁজতে খুঁজতে এক সময় খবর পেলো সূচী গ্রামে তার এক তার দাদীর কাছে গিয়ে থাকে । দাদীর আর কেহ নাই । বয়স আশি তাকে দেখার কেহ নেই।

অন্তু আর মিথিলা দুজনে সন্ধান পেয়ে ছুটে যায় সূচীর কাছে গ্রামে ।অফিসে জানিয়ে দেয়, একসপ্তাহ ছুটিতে আছে ।সেই গ্রামে গিয়ে অন্তু আর মিথিলা সূচী কে দেখে কান্নায় ভেঙে যায় । মিথিলা বলে,মাগো তুমি আমাকে ছেড়ে কেন চলে এলে আমি তো তোমাকে ছাড়া কিছু চাই না মা। সূচীর এই কথায় এতো দিনে মনে হলো সেদিনের অনিচ্ছা সত্বেও সেই বাচ্চাটা আজ তার চোখে আনন্দের অশ্রু এনে দিয়েছে তাকে ছাড়া চলবে না বলে। এখানেই তার মা হওয়ার সার্থকতা । অন্তু কাছে গিয়ে বলতে লাগলো ,সূচী আমি জানি আমি ক্ষামার যোগ্য নয় । তবুও ক্ষমা করো ।তোমার শুন্যতায় বুঝেছি কত গুরত্বপূর্ণ তোমার ভুমিকা আমাদের সকলের জীবনে ।যে শ্রম দিয়ে তুমি সারাদিন আমার কাপড় আয়রণ থেকে শুরু করে আমার সম্পূর্ণ যত্ন , মিথিলার যত্ন ,ঘরের সব কিছু পরিপাটি সাজানো গোছানো রাখতে -কখনোই আমরা তার মুল্যায়ন করতে পারিনি । তুমি আমার বাড়ির সব চেয়ে মুল্যবান মানুষ, যে কিনা সকলের সুন্দর্য তুলে ধরে নিরবে নিভৃতে । আমায় ক্ষমা করে ঘরের মানুষ ঘরে ফিরে চলো।

অভিমানের স্বরে সূচী বলে,আমাকে চিনতে তোমার এত বছর চলে গেল।সুতরাং বাকী জীবন আমি দাদীর সেবা করে কাটাতে চাই । অন্তু সূচীর হাত কিছুতেই ছাড়ছে না । না সূচী তুমি ছাড়া আমি দাদীর থেকেও অচল ।দাদীকেও আমরা শহরে নিয়ে যাবো । আমাদের সাথে রাখবো ভাল চিকিৎসা করাবো। সূচীর মন একটু নরম হলো।

সূচী আজ বলতে ছাড়ছে না অন্তু কে ।একটা মেয়ে যেখানে বড় হয় তার শৈশব কৈশর তাকে ছেড়ে বিয়ের পর চিরতরে যার হাতটি ধরে,সেই হাতটি সম্পূর্ণ নতুন । সেখানে পরীক্ষায় মেয়েটিকে উত্তীর্ন হতে হয় সব জায়গায় । অন্তু কখনো কি ভেবেছো সেই মেয়েটিও একটি মানুষ । চাওয়া পাওয়া থেকে শুরু করে সন্মান, স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে তার ।অন্তু সূচীকে জড়িয়ে কপালে আলতো চুমু দিয়ে বলে , আমায় এবারের জন্য মাফ করে দাও। দেরী হলেও কোন কিছু শেষ হয়ে যায়নি।মিথিলা মাকে জড়িয়ে অনবরত বলে,মা তোমাকে না নিয়ে আমি যাবো না মা। সূচী কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। এমন একটি সুন্দর জীবনেরই তো স্বপ্ন দেখতো সূচী।অন্তু অনবরত বলতে লাগলো ,আমাকে আবার সুযোগ দাও সূচী! বছর পেরিয়ে দিন আসে ।এক সময় মিথিলা উচ্চ শিখায় আমেরিকা যায় ।উচ্চশিক্ষা নিয়ে ফিরে আসে ।অন্তু বুঝতে পারে আপনজনকে চেনাই আসল চেনা।সেখানেই লুকিয়ে আছে সুখ ।সেই সুখকে খুঁজে নিতে হয়,লালন করতে হয় ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD