রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২:৩২ অপরাহ্ন

শিরোনাম :

সাহিত্যের পশ্চাৎপদতা ও বাঁক বদলের গল্প -হাসনাইন সাজ্জাদী

সাহিত্যের পশ্চাৎপদতা ও বাঁকবদলের গল্প
হাসনাইন সাজ্জাদী
।।
সাহিত্য করলেই মানুষ প্রগতিশীল হয় না।মৌলবাদীদের সাহিত্য উন্নত সমাজ নির্মাণে কাজে আসবে না।আজকাল মৌলবাদীদের নিয়ে যারা লম্পঝম্প দিয়ে নিজেদেরকে আবার প্রগতিশীল পরিচয়ে পরিচিত করতে চায় তারা জানে না,তাদের পরিচয় প্রগতিশীলদের কাছে অজানা নয়।ফেসবুক দখলে রেখে সাহিত্যিক হওয়া যায় না।মৌলিক কাজ থাকতে হয়।নাগরিক কবি শামসুর রাহমান- লোকজ ও পশ্চাৎপদ একজন কবিকে কবি কায়সুল হকের চেয়ে বড়ো কবি মনে করতেন না।শামসুর রাহমান পদ্য থেকে কবিতাকে বের করে আলাদাভাবে চিহ্নিত করেছেন।নাগরিক ভাবনাকে সাহিত্যে আত্মীয়করন করে এগিয়ে দিয়েছেন বাংলা সাহিত্যকে।এ ধারারই পরের স্টেপ আমার বিজ্ঞান কবিতা আন্দোলন।
আধুনিক কবিতা লিখে যারা ব্যার্থ হয়,তারা ধর্মের পথ ধরে সাম্প্রদায়িকতা তৈরি করে।তাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন বিতর্কিত জীবন ও পশ্চাৎপদ কবিতা নিয়ে আলোচনা করলে ধার্মিকরা ভালোভাবে না নিয়ে বলে এটা ধর্মবিদ্বেষ।
জসীমউদদীনকে যারা একমাত্র আধুনিক কবি মনে করেন এবং নিজেদেরকে উত্তরআধুনিক কবি দাবি করেন তারা নিসন্দেহে ধর্মান্ধ।তারা কবিতা জ্ঞান রাখে না।সনেট দেখে আর বলো কন্যা কবুল কবুল শুনে মনে করে এটা উত্তর আধুনিক কবিতা।তারা জানে না,১০০ বছর আগের সনেট আর ৬০ বছর আগের পল্লী কবিতার অনুকরণ করে উত্তর আধুনিক কবি হওয়া যায় না।এটা জ্ঞানবিজ্ঞানে মুর্খরা বুঝতে পারে না।পারলে তারা তাদের দেউলিয়াত্ব বুঝতে পারতো।কিন্তু তারা আধুনিক কবিতাও বুঝে না তাই নিজেদের দেউলিয়াত্ব অনুমান করতে পারে না তারা।বুঝতে পারে না বিজ্ঞান কবিতার মাহাত্ম্য।উন্নত জীবন ও নিরোগ স্বাস্থ্য লাভের জন্য দরকার বিজ্ঞানের অনুসরণ।বিজ্ঞান ছাড়া জীবন মহৎ হয় না।
জসীমউদদীন উত্তরআধুনিক কবি হলে শামসুর রাহমান কী?
আর আল মাহমুদ তখন কেমন কবি? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া তখন কঠিন হয়ে যায়।কবিতার বিবর্তন ও সময়কে ধরে রাখার ব্যাখ্যা তাদের নিকট কেমন হবে বুঝি না!
আরেক দল কবি আছেন যারা কবিতার মৌলিক কোনো পরিবর্তনের চেষ্টা করে না অথচ দাবি করে তারা বাঁকবদল করছে।বাঁকই জানে না আবার বদল করছে।আজগুবি কাণ্ডজ্ঞানহীন কবি যতসব।তাও নিজেদের তারা বড়ো কবি মনে করে।
কবি সত্য বলবে এবং আগাম দেখবে।কবিকে বলা হয় সত্যদ্রষ্টা ও ক্রান্তদর্শী।গতানুগতিক কবিতা লিখে অথবা হাটুর নিচ দিয়ে মাথা ডুকিয়ে পেছনে তাকালে কি সামনটা দেখা যায়।এটা তারা বুঝে না।মেধাহীনতার কারণে সত্যিটা বুঝে না বলে স্বীকারও করতে চায় না তারা।সাহিত্য করতে নয়,সাহিত্যের চিরন্তন প্রাগ্রসরতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে তাদের সাহিত্যে আগমন।আর প্রগতিশীলতা তাদের ভানমাত্র!
উত্তরআধুনিক ও উত্তরঔপনিবেশিক কবিতার বাঁকবদলে বিজ্ঞান কবিতার বিকল্প নেই।কিন্তু বিজ্ঞান কবিতার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আবার উত্তর আধুনিক কবিতার আয়োজন করে তারা,যারা কবিতায় চর্চা করে মৌলবাদের।হিংসা করে প্রগতিশীলতাকে।এটা আমরা বুঝি না এমন নয়!

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD