মঙ্গলবার, ২৫ Jun ২০২৪, ০৬:০৯ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে আবারও নিষেধাজ্ঞা

মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে আবারও নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামীকাল ১ জুন থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সিএনএর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হাতে অল্প সময় থাকায় জরুরিভিত্তিতে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে কর্মী পাঠানো হয়। এতে চাপ পড়েছে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধ হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। ফলে দেশটিতে শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ শ্রমিক আনছে। এতে করে বিমানবন্দরে শ্রমিকদের বিশাল জটলা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শ্রমিকেরা বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কুয়ালালামপুরের দুটি আন্তর্জাতিক টার্মিনালে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী পৌঁছেছেন, যারা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা অবস্থান করছেন বিমানবন্দরের ফ্লোরে। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের। নিজেদের কর্মী শনাক্তেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নিয়োগকর্তাদের। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে কর্মীদের।
এদিকে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দৈনিক বিদেশি কর্মীদের আগমন হয় ৫০০ থেকে ১ হাজার। কিন্তু ২২ মে থেকে আগমনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত ও যানজট নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু হয়েছে। কর্মী প্রবেশের সময় আর মাত্র একদিন বাকি থাকায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীরা উল্টো পথে দুবাই, কাতার, চীন, হংকং, সিংগাপুর, ইন্দোনেশিয়া হয়ে স্রোতের মতো দেশটিতে ঢুকছেন।
এরই মধ্যে অনেকের অভিযোগ, টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিন্ডিকেট চক্র মালয়েশিয়ার ৩০ হাজার টাকার ওয়ানওয়ে টিকিটের দাম এখন ৯৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে। এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।
নির্ধারিত ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এফডব্লিউ সিএমএস প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দেশটিতে প্রবেশের সবশেষ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ৩১ মে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের ৩১ মের মধ্যে দেশটিতে প্রবেশের হিড়িক পড়েছে।
এ নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটি নেতা রাশেদ বাদল বলেন, মালয়েশিয়া আমাদের জন্য অন্যতম বড় শ্রমবাজার হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের ফলে আমাদের বিরাট ক্ষতি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়া ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রবাসী বলেন, সিন্ডিকেট চক্রের অনিয়ম দুর্নীতি এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে ৩১ মের পর থেকে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দালালদের হাত বদল হয়ে প্রায় চার থেকে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করে কর্মীরা দেশটিতে যাচ্ছে।
বায়রার যুগ্ম মহাসচিব মো. ফখরুল ইসলাম ফোনে আলাপকালে বলেন, প্রায় ১০ লাখ কর্মীর মেডিকেল করেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে প্রবেশের সময় বৃদ্ধি না হলে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া গমনে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে কোনো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাতে কর্মী নিয়োগ না হয় সে ব্যাপারে প্রবাসী মন্ত্রণালয়কে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
টিকিট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে ব্যবসায়ী দাতুশ্রী কামরুজ্জামান কামাল বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের টিকিট কয়েকটি এয়ারলাইন্স গতকাল থেকে অস্বাভাবিক বাড়িয়েছে। ৩০ হাজার টাকার টিকিট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১ লাখ ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। এটা বিদেশগামী কর্মীদের ওপর মারাত্মক জুলুম।
তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা ১ লাখ ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে। এটা ডাকাতি ছাড়া কিছু নয়।
২০২৫ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার মোট শ্রমিকের ১৫ শতাংশ অন্যান্য দেশ থেকে আগতদের জন্য নির্ধারিত করে দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে ২০ লাখ বিদেশি শ্রমিক কাজ করছেন।
# আকাশ

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD