বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সাহিত্যে রহিম করিম ওয়ার্ল্ড প্রাইজ পেলেন এস এম শাহনূর পর্যটন পুলিশের মিডিয়া উইংস প্রধান আবদুল হালিমকে কবি সাংবাদিকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ভুলে ভরা বাংলাদেশের নদী বিষয়ক গ্রন্থগুলো -হাসনাইন সাজ্জাদী বৃক্ষরোপণ ও সবজি চাষে জোর দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিউইয়র্ক বইমেলায় সাহিত্যমান বিতর্ক এখন বিজ্ঞান কবিতার কাল -হাসনাইন সাজ্জাদী ‘পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে’ আমার কয়েকটি কথা -হাসনাইন সাজ্জাদী আনন্দকাব্য না বিজ্ঞানচিন্তা? বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে নির্দেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির মিডিয়া শাখায় নতুন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হালিম। ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে
বেনজির শিকদারের কবিতা -পিতা

বেনজির শিকদারের কবিতা -পিতা

বেনজির শিকদারের কবিতা -পিতা

পিতা
বেনজির শিকদার

হে আমার প্রিয়তম সকাল!
হে আলোকিত সূর্যের সারল্য
এসো গল্প শুনি; এক মহাজাগতিক সত্তার!

কণ্ঠে তাহার ঝরতো বারুদ ; ইতিহাস হতো কথা!
সে আমার পূর্বপুরুষ! অভিনব এক পিতা।

কীভাবে বিশ্বাসী পৃথিবীতে হয় অবিশ্বাসের ধারাপাত
কীভাবে ঋতুবতী বসন্ত এসে ছুঁয়ে যায় পলাশের হাত
জীবন ও যাপনের চাতুর্যকলায় সবুজের বুকে
কীভাবে ঘুমিয়ে থাকে অনাদিকালের উত্তপ্তসূর্য!
এ এক দেশ জনপদ জাতি ও জনকের ইতিকল্প।

দেশ বলতে বঙ্গভূমি! জাতি বলতে বাঙালি!
আর জনক বলতে; শেখ মুজিব!

সাতচল্লিশের দেশভাগ
পূর্ব-পশ্চিমের বৈষম্য-লীলা ছাপিয়ে—
ভাষা আন্দোলনের বাহান্ন।
রক্তে রক্তে রাজপথ হলো ভারী!
সালাম-বরকত, রফিক-জব্বার; ঝরে গেল অগনিত প্রাণ!
এলো— চুয়ান্ন! উনসত্তর! আসাদের রক্তমাখা শার্ট!
এগারো দফা, ছয়দফা
সত্তরে নিরঙ্কুশ বিজয় বাঙালির।
একটি তর্জনীর প্রেমে উন্মাদ গোটা জাতি
অবিসংবাদিত নেতার আহ্বানে উৎসর্গ ত্রিশ লক্ষ প্রাণ!

টুঙ্গিপাড়া থেকে ধানমন্ডি;
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত!
প্রদীপ্ত আলোর বিচ্ছুরণে চিরকালীন
সে মহানায়কের ছায়া ভেসে বেড়ায়; গোটা বাংলার জমিন!

পাখির গানে উচ্চারিত— শেখ মুজিব!
ফুলের বনে আন্দোলিত— শেখ মুজিব!
রাজপথ ভেঙে উচ্চারিত— শেখ মুজিব!
স্লোগানে স্লোগানে উন্মীলিত— শেখ মুজিব!
মশালে মশালে প্রজ্বলিত— শেখ মুজিব!

তৃণপ্রেমী পাখির ঠোঁটে— শেখ মুজিব
ছায়াজলে গান হয়— শেখ মুজিব!
বহুবর্ষী নদীর ঢেউয়ে— শেখ মুজিব
অন্তহীন মায়ার স্নানে— শেখ মুজিব!
দ্রোহ-প্রেমের উচ্চারণে— শেখ মুজিব!
প্রেরণায় প্রকাশ্যে— শেখ মুজিব!
চেতনের মায়াঘোর— শেখ মুজিব!

যেন দুর্বার তারুণ্যে কল্লোলিত ঝড়!
আকাশে বাতাসে কান পেতে দিলে একই কণ্ঠস্বর।

অকস্মাৎ কালের কলঙ্কে এক নিনাদ ভোর
সহসা থমকে যায় দেশ!
বত্রিশ নম্বর থেকে রক্ত গড়িয়ে নামলো শোকের নহর।

আমার ইতিহাস সাক্ষী—
বাংলা একাডেমি চত্বরে প্রথম পাঠ
‘আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি’
বার্লিনে একজন ভায়োলিন বাদককে দেখানো
দশ টাকার নোটের সেই ছবি
অথবা ‘যতোকাল রবে পদ্মা-মেঘনা গৌরী-যমুনা বহমান
ততোকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’

শব্দের ধ্বনিকালে গর্জে কল্পনার হাতুড়ি, শাবল
কবি শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক,
শহীদ কাদরী, রফিক আজাদসহ অসংখ্যজন
অনুভবের পবিত্র ব্যঞ্জনায় আঁকলেন—
শেখ মুজিব! শেখ মুজিব! শেখ মুজিব!

বাহুলগ্ন প্রেমিক!
নিদ্রাভঙ্গ পিতা!
অগ্রজ থেকে লক্ষ্যভেদী অনুজ!
নির্বিচারে সম্মোহনী সেই নাম। শেখ মুজিব!
শেখ মুজিব এক স্বপ্নদ্রষ্টা!
এক চিরন্তন-পতাকাসম উড্ডীন মহাকাব্য।
শেখ মুজিব আমার প্রেম! আমার পিতা! এক অনল পুরুষ!

ভাসিয়ে আঁখি সে নামে গান গায় পাখি
অন্তরাত্মায় বাজে অনিবার্য চারটি শব্দ
জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু!

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD