শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

গণমানুষের কবি দিলওয়ারের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে পাণ্ডুলিপির ত্রিপুরায় সম্মাননা প্রদান।।কবির প্রতি আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি

গণমানুষের কবি দিলওয়ারের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে পাণ্ডুলিপির ত্রিপুরায় সম্মাননা প্রদান।।কবির প্রতি আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি

গণমানুষের কবি দিলওয়ারের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে পাণ্ডুলিপির ত্রিপুরায় সম্মাননা প্রদান।।কবির প্রতি আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি

গণমানুষের কবি খ্যাত দিলওয়ার।কবিতায় তিনি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর।দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার আলোয় উদ্ভাসিত লেখক সাহিত্যিকেরা।গত ৭ অক্টোবর আগরতলা প্রেসক্লাবে স্রোত আয়োজিত ত্রিপুরা বাংলাদেশ বইমেলায় অংশগ্রহণকারী পাণ্ডুলিপি প্রকাশন পূর্ব ভারতের আসাম ও ত্রিপুরার লেখক সাহিত্যিকদের মধ্যে কবি দিলওয়ার সম্মাননা ২০২৩ প্রদান করে।
সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন সম্পাদক কবি ড.অপর্ণা গাঙ্গুলী,কবি ও সম্পাদক গোবিন্দ ধর,কবি বিজিত বোস,কবি সম্পাদক শাশ্বতী দাস এবং কবি ও সম্পাদক মিতা দাস পুরকায়স্থ।
অনুষ্ঠানে লেখক প্রকাশক বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল উপস্থিত থেকে সম্মাননা প্রদান করেন।অন্যান্যের মধ্যে তাঁর সঙ্গে মঞ্চে বাংলাদেশের বিজ্ঞান কবি হাসনাইন সাজ্জাদী, বিশ্ববাঙালি সংসদের সভাপতি কবি লোকমান হোসেন পলা ও কবি গীতিকার মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

আজ ১০ অক্টোবর কবি দিলওয়ারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে তিনি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরকালের দিকে পাড়ি জমান। কবি দিলওয়ার ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি সিলেট শহরের অন্তর্গত দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

কবি দিলওয়ার বাংলাসাহিত্যের কিংবদন্তি কবি। সমকালীন বাংলাসাহিত্যে তিনি এক বিরল প্রতিভা। তাঁর কাব্যভাষা যেমনই সুদূর সন্ধানী, তেমনই তাঁর সামগ্রিক রচনায় মিলে প্রাজ্ঞতা এবং যজ্ঞের ছাপ। বিশ্বকে একটি মানবিক স্বদেশ ভাবনা যার হৃদয় চেতনাকে করেছে উন্মীলন। তিনি কবি দিলওয়ার গণ মানুষের কবি। প্রেম, দ্রোহ, সংগ্রাম, স্বজাত্যবোধ এবং কাতরতায় তিনি আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তিনি ইতিহাসের একটি সমৃদ্ধ অংশ। সিলেটের সাহিত্য জগতের দিকপাল তিনি। শুধু তাই নয়, সুরমার তীর থেকে তাঁর সাহিত্যের দ্যোতি পৌঁছেছে বুড়িগঙ্গার তীরে। আবার টেমস নদীর তীরেও তিনি সমানভাবে উচ্চারিত হয়েছেন সশ্রদ্ধ ভালোবাসা ও অনুভূতিতে। তাঁর কাব্যভাষায় উপজীব্য হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের আনন্দ-বেদনা ও স্বপ্ন-সম্ভাবনা। সাহিত্যের ইতিহাস-ঐতিহ্যে তিনি স্বগর্বে ও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত লোকে অবস্থান সৃষ্টি করেছেন। কবি দিলওয়ার পঞ্চাশ দশকের উজ্জ্বল এক কাব্যপ্রতিভা। শামসুর রাহমান আর শহীদ কাদরীর মত কাব্যপ্রতিভার সময়কাল থেকেই তার কাব্যের স্ফুরণ। তাঁর কাব্য সাধারণ মানুষের আবেগকে ছুঁয়ে ছিল আগাগোড়াই। গাঁয়ের মানুষের শরীরের গন্ধের সাথে তাঁর কবিতা সমানতালে হেঁটে যেত। ফলে খুব সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন কাব্য-ভালোবাসার অনন্য এক নাম।

কবি দিলওয়ারের সাহিত্য সাধনার মূলে ছিল কবিতা। তবে তিনি কবিতা ছাড়াও ছড়া, প্রবন্ধ-নিবন্ধ এবং অনেক সাময়িকীও সম্পাদনা করেছেন। সাহিত্যপ্রতিভার মূল্যায়নে তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক চিন্তার অধিকারী। কবি দিলওয়ারের কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে, জিজ্ঞাসা (১৯৫৩), ঐকতান (১৯৬৪), উদ্ভিন্ন উল্লাস (১৯৬৯), বাংলা তোমার আমার (১৯৭২), পূবাল হাওয়া (১৯৬৫), Facing the Music (১৯৭৫), রক্তে আমার অনাদি অস্থি (১৯৮১), নির্বাচিত কবিতা (১৯৮৭), স্বনিষ্ঠ সনেট (১৯৭৯), দিলওয়ারের একুশের কবিতা (১৯৯৩), দিলওয়ারের স্বাধীনতার কবিতা (১৯৯৩), দিলওয়ারের রচনাসমগ্র ১ম খণ্ড (১৯৯৩), ২য় খণ্ড (২০০০), ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ডাকে (২০০১), সপৃথিবী রইব সজীব (২০০৪), ‘দুই মেরু, দুই ডানা’ (২০০৯), ‘অনতীত পঙ্ক্তিমালা’ (২০১০) এবং ‘বঙ্গবন্ধু, আমি তোমার পেশাদার মিত্র নই’ (২০১০)।

প্রবন্ধগ্রন্থ হচ্ছে : ‘বাংলাদেশ জন্ম না নিলে’ (১৯৮৬), ‘রবীন্দ্রনাথ কী সম্প্রদায়িক (২০১২) প্রভৃতি। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত অনেক প্রবন্ধাদি রয়েছে।

ছড়াগ্রন্থ : ‘দিলওয়ারের শত ছড়া’ (১৯৮৯), ‘ছড়ায় অ আ ক খ’ (১৯৯৪)।
কবি দিলওয়ার সম্পাদিত সাহিত্য সাময়িকী ও সংকলনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গ্রাম সুরমার ছড়া’, ‘সমস্বর (সাহিত্যপত্র)’, ‘যে আমার জন্মাবধি’, ‘মৌমাছি’, ‘সময়ের ডাক’ প্রভৃতি। এগুলো দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিল। কবি দিলওয়ার সময়ের ডাক পত্রিকাটি ত্রৈমাসিক হিসেবে বের করেছিলেন। তিনি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে পরিদর্শকও সম্পাদনা করেন।

বাংলাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য এই কিংবদন্তি কবি বাংলা একাডেমি, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
কবি দিলওয়ার এক মানবিক স্বদেশের প্রবক্তা। তাঁর জীবন ছিল একটা পরীক্ষিত জীবন। প্রতিকূল পরিবেশ ও জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমেই তাঁর কাব্য ও সাহিত্য সাধনা এগিয়ে গিয়েছির। যেন জ্বলন্ত সাহারা মরুভূমির মধ্য থেকে একটি সবুজ পাতার অস্তিত্বকে তিনি দাঁড় করাতে পেরেছিলেন। কবি দিলওয়ারের সেই সবুজ পাতাই আজ মহীরুহ, একটি গোলাপ, যে গোলাপ থেকে সুবাতাস বয়ে যায়। তাঁর আলোর বিচ্ছুরণ থেকে অসংখ্য প্রতিভার জন্ম হয়েছিল। কবি দিলওয়ার শুধু সিলেট নয়, বাংলাসাহিত্যের একটি আলোকিত প্রতিভা। একটি বিরল কালজয়ী কবিতার নাম কবি দিলওয়ার। কবি দিলওয়ার বুদ্ধিবৃত্তিকতা এবং সৃজনশীলতায় যে সুনাম ও গৌরব অর্জন করেছিলেন তা এখন ম্লান হওয়ার পথে। কবি দিলওয়ারের চেতনায় সেই ম্লান পথকে মাড়িয়ে দেওয়ার কর্মপন্থা প্রতিভাত হয়েছে। বাংলাসাহিত্যে কবি দিলওয়ারের সাহিত্য সাধনা ও কাব্যরচনা একটি গভীর তাত্ত্বিক পর্যালোচনার বিষয়।

১০ অক্টোবরের এই দিনটি ছিল বাংলা সাহিত্যের জন্যে একটা বিয়োগান্ত। এই দিনে কবি দিলওয়ার থেমে গেছেন কালের আবর্তনের পথ ধরে। থেমে গেছে তাঁর নাগরিক ভাবনার কলম। গণমানুষের স্বপ্ন লেখার কলম। তিনি চোখ বুজলেন। আর বাংলা সাহিত্যের আকাশ থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি খসে পড়লো নিমিষে। কবি চলে গেছেন। থেমে গেছে তাঁর সৃষ্টিশীলতার আকাশ। কালে কালে তাঁর সাহিত্য মূল্যায়ন হবে নিঃসন্দেহে। বাংলাসাহিত্যে কবি দিলওয়ার তাঁর সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকতায় যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবেন। কবিদের শারীরিক মৃত্যু হলেও সৃষ্টিশীলতার মৃত্যু হয় না। তারা চিরায়ত পথ ধরেই হেঁটে অনন্তকালের দিকে ধাবিত হয়। কবি দিলওয়ারের ভাষায় :
‘চিরায়ত পথ ধরে যারা যায় আর যারা আসে
মুদ্রার দুপিঠ তারা, প্রেম নিয়ে মাটিতে আকাশে।’

আল্লাহ তায়া’লা কবি দিলওয়ারের নেক আমলকে কবুল করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD