মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

কেরালা স্টোরি সিনেমার স্টোরি -দয়াময় পোদ্দার

কেরালা স্টোরি সিনেমার স্টোরি -দয়াময় পোদ্দার

মমতা ব্যানার্জী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, যেদিন দি কেরালা স্টোরি সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করল, সেদিন লাস্ট শো তে বিভিন্ন হল মালিকদের কাছে ফোন যেতে শুরু করল- সিনেমাটি বন্ধ করে দেবার জন্যে। কিন্তু বিষয় হলো মমতা ব্যানার্জীর ঘোষণা তো আইন নয়, তার জন্যে লিগ্যাল কাগজপত্র থাকতে হয় ঘোষনার স্বপক্ষে। সেইসব কাগজ হলমালিকের কাছে গেলেই তবে হলমালিক সিনেমাটিকে বন্ধ করবেন। অথচ আমরা পরদিন কি দেখলাম? বিভিন্ন হলে পুলিশ গিয়ে দর্শকদের উপরে চড়াও হলো, যেটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।
* সিনেমাটি আসলে কি? তিনটি হিন্দু মেয়ের কাহিনী। যদি তাঁরা হিন্দু নাও হন, ধরুণ তিনটি মেয়ে, যাঁরা প্রেমের ফাঁদে পড়ে একসময় পৌঁছে যায় ISIS জঙ্গী সংগঠনে। এদেরকে মূলত জঙ্গিদের যৌনদাসী করাই লক্ষ্য। এখানে নির্দিষ্ট ভাবে মুসলিমদের হেয় করা হয়নি। সিনেমাটি দেখে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্যান্য সম্প্রদায়ের মেয়েরা সতর্ক হতে পারতেন। কেরালা হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি সিনেমাটি দেখে তবে ছাড়পত্র দিয়েছেন।

তাহলে মমতা ব্যানার্জী কেন সিনেমাটি নিষিদ্ধ করলেন?
আসলে বলা উচিৎ- কেন নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হলেন?
উত্তর খুব সহজ, PFI নামে একটি সংগঠনের জন্যে।
এই সংগঠনটির পূর্বে নাম ছিলো NDF।
২০২২সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় সরকার এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তারপরে সংগঠনের নাম হয় PFI। কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং পশ্চিমবঙ্গে এরা সক্রিয়। এদের নিজস্ব ব্যাংক থেকে নিজস্ব পতাকা সব আছে।
বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামিক জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে এদের নিবিড় যোগাযোগ।
এইমুহূর্তে PFI -এর পশ্চিমবঙ্গে সদস্য সংখ্যা বেশি এবং আর্থিক ইনকামও বেশি। কলকাতার তিলজলায় এদের হেড অফিস ছিলো। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালায় এবং তিলজলা অফিস থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
২০২২সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর কেন্দ্র এই সংগঠনকে ব্যান করলে তার পরদিন ২৯শে সেপ্টেম্বর অভিষেক ব্যানার্জীর নির্বাচনী ক্ষেত্রে বিশাল মিছিল করে PFI। সরকারের অনুমতি লাগেনা। সরকার বাধাও দেয়নি।
এর আগে করোনার সময় যখন টোটাল কারফিউ, দোকান পাট, মিটিং মিছিল এমনকি রাস্তা ঘাটে মানুষ পর্যন্ত বের হয়না, তখন মুর্শিদাবাদে এরা সরকারকে তোয়াক্কা না করে এরা মিছিল করেছিল।
এরা সপ্তাহের তিনদিন PFI আর চারদিন তৃণমূল।
কেন্দ্রীয় সরকার যে সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, মমতা ব্যানার্জী তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। কেননা, মমতা ব্যানার্জীর ভোটব্যাংক দরকার। এখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আসা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়, রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কেন তিনি আসবেন,তাই নিয়ে প্রশ্ন তোলে ববি,সৌগতরা। অথচ PFI বিষয়ে এরা চুপ। কৌশিক সেন দি কেরালা স্টোরিকে নিষিদ্ধ ঘোষনাকে সমর্থন করে টিভিতে বাইট দেন, অথচ ভুলে যান তিনিও একজন শিল্পী। তাঁরও সিনেমা, নাটক মুক্তি পায়।
এদের জন্যে PFI পুরো রাজ্যে জাল বিছিয়ে ফেলেছে।
একটা নিষিদ্ধ সংগঠনকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী পোষে, তাই দি কেরালা স্টোরিকে নিষিদ্ধ করা দরকার ছিলো।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD