সোমবার, ০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
জুড়ীর অজ্ঞাত শহিদ শুয়ে আছেন শিলচরে,মুক্তিযুদ্ধ ৭১।নিউজ শিলচর স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে গবেষক এস এম শাহনূরের জন্মদিন পালন ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ পুলিশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ থেকে ৮ সপ্তাহের সার্জেন্ট নবায়ন সার্টিফিকেট কোর্স শুরু মুয়াজ্জিন হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি অগ্রিম জামিনে এসে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি বঙ্গবন্ধুকে ট্রাফিক পুলিশের হৃদয়ে ছড়িয়ে দিতে নানা আয়োজন অদ্ভূত প্রেম।।ফেরদাউসী কুঈন জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর জন্মদিনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা -বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল টিডিএস গ্রান্ড কল্যাণ ও জাতীয় শুদ্ধাচার বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত তারাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত চারতলা ভবনের উদ্বোধন বেলাবোতে বিএমইউজে’র কমিটি গঠিত। আলি সভাপতি আলমগীর সম্পাদক
কাটানালার পাড় -হাসনাইন সাজ্জাদী

কাটানালার পাড় -হাসনাইন সাজ্জাদী

আমার দেখা আমার লেখা -১৩।।
-হাসনাইন সাজ্জাদী

ঘর থেকে দু’পা ফেলে
।।
কৈশোরে কখনো গেছি বাপ দাদার জন্য কিংবা মেহনতিদের জন্য জল নিয়ে,নাস্তা কিংবা খাবার নিয়ে।স্রোতস্বিনী কাটানালার পাড়।কাটানালা এখন শুকিয়ে বাড়ির পাশের খালের রূপ নিয়েছে।কাটানালার জন্ম কণ্ঠিনালা থেকে।কন্টিনালার উৎপত্তি আবার জুড়ী নদী থেকে।বাঁ দিকের ছোটো নালা থেকে এখন নদী স্রোতস্বিনী।
জুড়ী শহরের প্রবেশ মুখ বা উপকণ্ঠ থেকে উৎপত্তি বলে কণ্ঠীনালার নামকরণ।যদিও জুড়ী এখন মরা নদী।আর কণ্ঠিনালা এখন প্রধান নদী।
কাটানালার পাড়ের জমিতে দেখলাম ধান মাড়াইয়ের মাঠ হয়েছে।চারা বপনের ভূমি হিসেবে ব্যবহার হয় বলে ধান রোপন হয়নি।ছোটোকালে দেখতাম এগুলোতে মরিচ ও টমেটোর চাষ হতো।তখন একজন দু’জন মেহনতি বছরচুক্তি কাজ করতেন।ময়না,গেন্দু,হারিছ আলী,জলাল প্রমুখদের আমরা পরিবারের সদস্যদের মত নিয়ে বসবাস করেছি।
কাটানালার পাড়ে চাষ করা টমেটো ও কাঁচাপাকা মরিচ কখনো চুরি হতো।চুরির ভয়ে কখনো দলবেধে এগুলো উঠাতে যেতাম।আবার সকাল সন্ধ্যা পাহারা দিতেও যেতাম।প্রধান আকর্ষণ ছিল কাঁচাপাকা টমেটো কাঁচামরিচ দিয়ে খাওয়া।পেট ভরেও খেয়েছি কখনো।এসবের ফলাফলও পেয়েছি যৌবনে।সুস্বাস্থ্য এবং শক্তি অনুভব করেছি ৬০ বছর পর্যন্ত।হঠাৎ ডায়বেটিস আক্রান্ত হবার পর মনে হলো এবার ক্ষয় হবে।তবুও সাহস হারাইনি!
প্রায় ৪০ বছর পর গেলাম কাটানালার পাড়।দেখলাম মন ভরে।আবার কবে দেখা হবে,যাওয়া হবে তা অনিশ্চিত।ঢাকায় চলে গেলে ভিন্ন জীবন।আর আয়ুস্কালতো প্রায় খতম।
যাক ধানখেতে এখন ধানকাটার গাড়ি চলতে দেখলাম।দলবদ্ধ ধানকাটার এখন আর দেখা পাওয়া যাবে না।
শ্রমিক সংকট চলছে।সবাই গেছে মধ্যপ্রাচ্যে।চা শ্রমিকরা এখন মাঝেমধ্যে ধানকাটতে আসে।তাদের বলা হয় দেশওয়ালী কুলি।
সময় বদলে যায়,বদলে গেছে।কে বলে সময় বদলায় না।সময় বদলায়।আমার ছেলেদের কোনো কারণে মাঠে পাঠালে তারা যাবে মোটরসাইকেলে চেপে।তাদের বাপের সে সঙ্গতি হয়েছে।তাদেরকে মোটরসাইকেল কিনেও দেয়া হয়েছে।আমার বাবার সঙ্গতি ছিল বাইসাইকেলের।উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর থেকে আমার জন্য আমার বড়ো চাচা বাসাইকেল আনিয়েছিলেন লোক দিয়ে।জমির এন্ড কোম্পানি তখন পূর্ব সিলেটে ভারতের সঙ্গে বড়ো ব্যবসায়ী।আমার সাইকেলে তখন বিশাল হেডলাইট বেকলাইট ছিল।চলতে গাড়ির মতো আলো দিত।ছোটো বেটারি সিস্টেম ছিল।সাইকেল চালানো শুরু করার পর অনেক দিন পর্যন্ত লোক আসতো তা দেখতে।এখনো সে গল্প জুড়ীর খলিল ভাই সহ অনেকেই করেন।দু’জন তিনজন নিয়ে বাইসাইকেলে চড়তাম।এখন উঠে দেখি চালাতে পারি না।
স্মৃতি এখন ঝাপসা হয়ে আসছে।এক সময় স্মৃতি চলে যাবে বিস্মৃতির আড়ালে।আমিও তো আড়ালে যাই যাই অবস্থা!

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD