বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সাহিত্যে রহিম করিম ওয়ার্ল্ড প্রাইজ পেলেন এস এম শাহনূর পর্যটন পুলিশের মিডিয়া উইংস প্রধান আবদুল হালিমকে কবি সাংবাদিকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ভুলে ভরা বাংলাদেশের নদী বিষয়ক গ্রন্থগুলো -হাসনাইন সাজ্জাদী বৃক্ষরোপণ ও সবজি চাষে জোর দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিউইয়র্ক বইমেলায় সাহিত্যমান বিতর্ক এখন বিজ্ঞান কবিতার কাল -হাসনাইন সাজ্জাদী ‘পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে’ আমার কয়েকটি কথা -হাসনাইন সাজ্জাদী আনন্দকাব্য না বিজ্ঞানচিন্তা? বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে নির্দেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির মিডিয়া শাখায় নতুন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হালিম। ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে
আসে কুঞ্জ ঢুলি – লিয়াকত হোসেন খোকন

আসে কুঞ্জ ঢুলি – লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢুলি

ঢুলি

মুক্তির তারিখ ৩ জুন ১৯৫৪

লিয়াকত হোসেন খোকন

শরতের শিউলি ঝরার গন্ধে আকুল হয়ে ওঠে আকাশ। নদীর চরে কাশের বন যেন চামর দোলাতে থাকে ; ধানের ক্ষেতে সোনালী রঙে যেন কোন কাঞ্চন বরণী কন্যার রূপরাগ ছড়িয়ে পড়ে।


বাঙালির ঘরে মায়ের আবির্ভাব। সেই আবির্ভাবের প্রথম দোলা বুঝি লাগে বাঙলা দেশের ঢুলীর রক্তে রক্তে! বাঙলা মায়ের মন্দিরে বোধনের ঢাক বাজাতে ছুটে আসে কুঞ্জ ঢুলী – সঙ্গে আসে তারই মাতৃ – পিতৃহীন কিশোর নাতি পরাশর।


সন্ধ্যায় বসে গানের আসর। সেই আসরে বাঙলা মায়ের বন্দনা গায় খাগড়ার গনেশ ওস্তাদ। তার অপূর্ব সুর – মূর্ছনায় পরাশরের মনে জেগে ওঠে একটি মাত্র দুর্বার বাসনা – যে করেই হোক তাকে গান শিখতে হবে। যে করে হোক তাকে হতে হবে গায়ক।


মা – বাবা হারা পরাশরের আবদার ঠেলতে পারে না কুঞ্জ। একদিন পরাশরকে নিয়ে পৌঁছে দেয় গনেশ ওস্তাদের পায়ের কাছে।
পরাশর তার সমস্ত প্রাণ মন সঁপে দেয় সংগীতের সাধনায়। ঢুলীর ছেলের মাথায় ঝরে পড়ে সংগীত রূপা -বাণীর আশীর্বাদ।


গনেশ বলে, আমার যা আছে সব তো তোকে ঢেলে দিয়েছি দু’হাতে। এবার তুই কলকাতায় চলে যা। চলে যা আমার গুরু রামলোচন শর্মার কাছে। সংগীতের রত্ন ভান্ডার তার কাছে – তার এক কণা পেলেও তুই ধন্য হয়ে যাবি।


কলকাতা! অচেনা – সুদূর কোন স্বপ্ন রাজ্য!


এবার ঢুলীর ছেলে এল কলকাতায়। শিউলি ফোটার দেশ থেকে পাথরের পুরীতে। কিন্তু পাথরের ভেতরও আছে সুরের ঝর্ণা।


আছেন অন্ধ ওস্তাদ রামলোচন শর্মা আর তার মেয়ে মিনতি। পরম স্নেহে দুহাত বাড়িয়ে তারা আশ্রয় দিলেন পরাশরকে।


জীবনের শেষ খেয়ায় পাড়ি দিতে চলেছেন রামলোচন। তবু এই বিদায় বেলাতে এল তার শেষ শিক্ষা – তার শ্রেষ্ঠ শিষ্য। নিবু নিবু শিখা আবার জ্বলে উঠল — ছায়ানট, মল্লার, ভীমপলশ্রীর এক একটি স্বর্ণ দীপ দীপান্বিতার মতো আলো করে তুলল পরাশরকে।


বাঙলা দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণী শিল্পী হয়ে উঠলো পরাশর।


শিষ্যের হাতে নিজের সর্বস্ব তুলে দিলেন রামলোচন – তারপর পরম তৃপ্তিতে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।

আরো পড়ুনঃ সিনেমার ভাষায় অভিনয়


সংগীতের সাধনায় মগ্ন দিয়ে পরম নির্ভাবনায় দিন কাটছিলো পরাশর আর মিনতির। এমন সময় এল নিখিল বঙ্গ সংগীত প্রতিযোগিতা। তাতে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়াল মুখোমুখি। একজন মিনতি শর্মা, আর একজন রাত্রি রায়।


রাত্রি রায় ধনীর দুলালী। চোখ ঝলকানো রূপ। সংগীতে অসামান্য অধিকার। প্রতিযোগিতায় সে প্রথম হবে – এ স্বতসিদ্ধ ! তবু – তবু ব্যতিক্রম ঘটে গেল ! অসামান্য রাত্রি রায়কে হারিয়ে দিয়ে প্রথম হল মিনতি শর্মা।


অপমানে – দুঃখে জ্বলতে জ্বলতে রাত্রি ফিরে এল বাড়িতে। ক্ষেপে আগুন হয়ে উঠলেন তিনটি কোলোয়ারীর মালিক রাত্রির বাবা রায় বাহাদুর। আর রাত্রির প্রসাদ -প্রার্থী পুলক সেন চীৎকার করে বলে, ইউরেকা ! পেয়েছি ! –
কী পেয়েছ? তা জানতে চাইলেন রায় বাহাদুর এবং তার স্ত্রী।

ধরে আনতে হবে ওই মিনতির মাষ্টারকে।
পুলক সেন তৎক্ষনাৎ গাড়ী নিয়ে ছুটলো।
ঢুলীর ছেলে পরাশরের জীবনে শুরু হলো আর এক নতুন অধ্যায়।


সরল নির্বোধ পরাশর মিনতির চোখের জলের ইঙ্গিত হলো, কিন্তু পরাশর তা বুঝল না। বুঝতে পারলো না পরাশরের বোবা মন।


পুলকের জালে পা দিয়ে পরাশর এসে আশ্রয় নিল রায় বাহাদুরের প্রাসাদে। বিষাক্ত নেশার ঘোরে পরাশর এগিয়ে চলল জীবনের চোরাবালির দিকে।
ওদিকে দেশে অপেক্ষা করছে পরাশরের দাদী – কবে ফিরে আসবে তার পরাশর , তাকে না দেখে সে তো মরতে পারে না।
আর নিরুদ্ধ ব্যথায় অপেক্ষা করে মিনতি……….!!


রাত্রি বেরিয়ে পড়ে দিগ্বিজয়ে — দেশে দেশে সমাদর চাই তার। চাই ভারতের সমস্ত প্রান্ত থেকে জয়ের মালা। শুধু পরাশর বাধা দিতে চায়। গুরু রামলোচনের বাণী স্মরণ করে সে রাত্রিকে বোঝাতে চায়, গুণী কখনো দরবারে যায় না মানের জন্যে , দরবার তার দরজায় আসে সন্মান দিতে।
কে শোনে কার কথা?


পুলক বলে, বুঝলে মাষ্টার – এ হ’ল পাবলিসিটির যুগ। পাবলিসিটি ফার্ষ্ট – পাবলিসিটি সেকেন্ড…….
অগত্যা পরাশরকেও বেরিয়ে পড়তে হয় তাদের সাথে।


পাটনা, লখনৌ, এলাহাবাদ, কানপুর, দিল্লি, আগ্রা, অযোধ্যা……..
ঝড়ের বেগে চলে রাত্রির পরিক্রমা। কিন্তু সেই ঝড়ের মুখে কতক্ষণ উড়তে পারে বাঙলা দেশের শিউলি ফুল? সেই উল্কার জ্বালা কতক্ষণ সইতে পারে ঢুলীর ছেলে পরাশর?


চরম তিক্ততা, চরম লাঞ্ছনার মধ্যে একদিন পরাশর আবিস্কার করে সে দেউলে হয়ে গেছে!
তবু ঢুলীর ছেলে আবার ফিরে যেতে চায় বাঙলা দেশের
বাঙলা মায়ের ঝরা আঙিনায়। ফিরে যেতে চায় তার সেই ফেলে আসা আদিম জীবনে! এই আলেয়ার মৃত্যু চক্রের হাত থেকে বাঁচতে চায় সে!!

ঢুলী ছবির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গান ঃ
১.
ও আমার বাংলা মাগো দেখি তোমায় নয়ন ভরে
তোমার ছলো ছলো নদীর জলে
প্রাণ জুড়ানো সুধা ঝরে –
ও মা তোমার বটের ছায়ায়
শ্যামল বনের কোমল মায়ায়,
মধুর স্নেহের আঁচলখানি বিছিয়ে দিলে
সবার তরে।
অন্নপূর্ণা রূপ দেখ মা
ভিখারী শিব দাঁড়ায় আসি,
কাজলা মেঘের শঙ্খরবে
ডাক শুনেছে বিশ্ববাসী।
তোমার সোনার ধানের ক্ষেতে দিলে সবার আসন পেতে,
ছড়িয়ে দিলে অরুণ রাগে –
তরুণ রবির করুণ হাসি।
সাঁঝ সকালে নদীর ঘাটে কলস ভরে তোমার বঁধু
কান্না হাসির ফোটায় কমল —
ছড়ায় তাতে প্রেমের মধু।
আমার সুখে আমার দুখে
দেখি তোমায় আমার বুকে মা
আমার জনম -মরণ তোমার কোলে মা গো,
এই শিউলি ঝরা মাটির পরে মা।
কথা ঃ শ্রী নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়।


২.
ভাঙ্গনের তীরে ঘর বেঁধে কি বা ফল?
তুই নিয়তির খেলার পুতুল বুঝলি না কেন বল।
শুধু আলেয়ার পিছে পিছে তুই জীবন কাটালি মিছে,
দুনিয়ার হাটে বেসাতি করিতে হারালিরে সম্বল।
কেন প্রাণের পদ্মে অর্ঘ্য রচিয়া করিস সমর্পণ,
শুধু চারদিন পূজা তারপর হায় প্রতিমা বিসর্জন।
তৃষা না মিটাতে হায়
তার পিয়ালা ভাঙ্গিয়া যায়,
জীবনের আশা সকলি ফুরায়, ফুরায় না আঁখিজল।
ভাঙ্গনের তরে ঘর বেঁধে কি বা ফল?
কথা ঃ শ্রী প্রণব রায়।


৩.
চুপি চুপি এল কে ফুলবনে মোর
সে কি গো ফুল চোর, না সে চিতচোর?
গোলাপের জলসায় আবেশে পাপিয়া গায়,
ফিরোজা জ্যোছনায় ফাগুন বিভোর।
ফুলেরে শুধাই যবে –
সে কেন গো আসে?
চামেলি নীরবে শুধু মুখ টিপে হাসে,
বুঝি সে পরাতে আসে মায়া – ফুলডোর।
কথা ঃ শ্রী প্রণব রায়।


৪.
ত্রিনয়নী দুর্গা মা তোর রূপের সীমা পাই না খুঁজে।
চন্দ্র তপন লুটায় মা তোর
চরণ তলে দশভুজে।
বসনা গায় সরস্বতী
লক্ষ্মী সাজায় সন্ধ্যা রাতি
কার্ত্তিকের সিদ্ধিদাতা
সিদ্ধ যে মা তোমায় পূজে।
ত্রিকাল যে মা থমকে দাঁড়ায়
রুদ্রাণী তোর চণ্ডী রূপে
জড়ের বুকে চেতন জাগে যুগান্তরের অন্ধকুপে।
হিমগিরের সিংহ তোমার
বাহন যে গো শক্তি পূজায়
মরণ ভয়ে অসুর কাঁপে পায়ের তলায় চক্ষু বুজে।
কথা ঃ শ্রী বিমলচন্দ্র ঘোষ।


৫.
উদিল কনক রবি পূরব দিগঙ্গনে।
বিহঙ্গ কাকলী
জাগে বনে বনে।
হে চির নূতন আলো
চেতনার সুধা ঢালো জীবনের ফুলে ফুলে
ভ্রমর গুঞ্জরনে।
কথা ঃ শ্রী বিমলচন্দ্র ঘোষ।


৬.
এই যমুনারি তীরে
মুরলী বাজিত যেথা সেই রাধা – কাঁদা সুরে।
এই যমুনারি তীরে।
যে বাঁশী হারালো গান, সুর গেল ভুলে,
তারি রেশ খুঁজে ফিরি শূন্য গোকুলে,
অনাদিকালের রাধা আজো নিরজনে ঝুরে।
এই যমুনারি তীরে —
কোথা সে মাধবী রাতি কোথা মধুমেলা,
প্রেমের বাসরে আজ কাঁদে অবহেলা,
শ্যাম নাই, বুকে তবু আছে শ্যাম নাম জুড়ে।
এই যমুনারি তীরে।


৭.
নিঙারিয়া নীলশাড়ী শ্রীমতী চলে।
শ্যামলের বেণু বাজে
কদমতলে।
সে সুরের মায়াডোরে রাধা বিবশা,
চকিত হরিণীসম থামে সহসা
যেন বিনি সুতার মালা
কে পরালো গলে।
কথাঃ শ্রী প্রণব রায়।

পিনাকী মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ” ঢুলি ” ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৪ সালের ৩ রা জুন – রাধা, প্রাচী, পূর্ণ এবং আরও ৯ টি সিনেমাহলে।


সুরকারঃ রাজেন সরকার।
গীতিকার ঃ বিমল ঘোষ, প্রণব রায়, পন্ডিত ভূষণ, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, মালিক।
গান ঃ ১৮ টি। গীতিবহুল ছবি ছিল ঢুলি।
সংলাপ রচনা ঃ নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও পন্ডিত ভূষণ।
চিত্রগ্রাহক ঃ সন্তোষ গুহরায়, অনিল ব্যানার্জী।
শব্দযন্ত্রী ঃ শিশির চট্টোপাধ্যায়।
শিল্প নির্দেশনা ঃ বটু সেন।
সম্পাদনা ঃ রবীন দাস।
চিত্রনাট্য ও তত্ত্বাবধানে ঃ অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়।
কাহিনী ঃ বিধায়ক ভট্টাচার্য্য।
আজ প্রোডাকসন্সের ” ঢুলি ” ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ঃ
সুচিত্রা সেন, মালা সিনহা, সুপ্রভা মুখার্জী, তপতী ঘোষ, অঞ্জলি রায়, সুপ্রিয়া, প্রসান্ত কুমার,
কমলা, মাষ্টার চন্দন, কার্ত্তিক, পাপু, নমিতা, মীরা,
ছবি বিশ্বাস, পাহাড়ী সান্যাল, নীতিশ মুখার্জী, ঋষি,
অনিল চট্টোপাধ্যায়, জহর রায়, বিকাশ রায়, রবি ,
ডাঃ হরেন, বিপিন মুখার্জী, খগেন পাঠক,
মণি শ্রীমানী,
অজিত চট্টোপাধ্যায় এবং আরও অনেকে।

নায়ক প্রশান্ত কুমার ” ঢুলি ” ছবিতে প্রথম অভিনয় করেছিলেন।
তাঁর জন্ম ১৯২১ সালের ২৫ শে আগষ্ট বাগবাজারে।
তাঁর আদিনিবাস চব্বিশ পরগণার বেনাপোলে। প্রশান্তের বাবা হরিদাস চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ।
শুধু সঙ্গীতজ্ঞ নন , তিনি ছিলেন সেন্ট পলস কলেজের অধ্যাপক। প্রশান্তর বাবা পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে মডার্ন আর্ট প্রেস নামে একটি মুদ্রণালয় স্থাপন করেন। সেখান থেকেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চয়নিকা, সঞ্চয়িতা প্রভৃতি গ্রন্থ মুদ্রিত হয়েছিল।
প্রশান্ত কুমার তাঁর বাবাকে হারান মাত্র এগারো বছর বয়সে।
দেওঘরের রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপিঠ থেকে প্রশান্ত ১৯৩৮ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। তারপর বি, কম অবধি পড়াশোনা করেন। এরই মধ্যে তিনি উচ্চাঙ্গ সংগীত শেখেন – ওই সময়ে বাগবাজারের ললিত ক্লাব থেকে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় এবং গান করে প্রশান্ত কুমার বেশ পরিচিতি পেতে শুরু করেন। আর এ ভাবেই তিনি চিত্র নির্মাতাদের নজরে পড়েন।
প্রশান্ত কুমার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি হলো ঃ
যদুভট্ট, জ্যোতিষি, চিরকুমার সভা – ইত্যাদি। তিনি বিয়ে করেছিলেন ১৯৪৫ সালে, তাঁর স্ত্রীর নাম ” ইলা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রশান্ত কুমারের মৃত্যু ১৯৯২ সালের ২৭ শে জুলাই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD