বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

আজ ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্তদিবস ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আজিজ বেগ

আজ ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্তদিবস ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা আজিজ বেগ

৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্তদিবস ও একজন বীর মির্জা আজিজ বেগ
।। হাসনাইন সাজ্জাদী।।

৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার মুক্তদিবস।এ দিন ভোরে মিত্রবাহিনী মৌলভীবাজার মুক্ত করে।তাদের সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে ছিলেন মহান আজীজ বেগ।তিনি পশ্চিম বাজার খেয়াঘাটে মুক্ত মৌলভীবাজারে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।মির্জা আজিজ বেগ ছিলেন বৃহত্তর সিলেটে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।
মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগঠক ছাড়াও মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগ,ছাত্র লীগ ও পর্যায়ক্রমে যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতায় তার ভূমিকা ছিলো গৌরবময়।সৈয়দ আমজাদ আলীকে সামনে রেখে তিনি মৌলভীবাজারের মুসলিম লীগের আগনসির এনাম উল্লাহ ও মেহের উল্লার বিরুদ্ধে লড়াই করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭০ এর নির্বাচনে তাকে টিকেট দিলে তিনি বঙ্গবন্ধুর বুঝিয়ে, মুসলিম লীগ পরিবার থেকে তার হাত দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জনাব আজিজুর রহমানকে টিকেট দিতে অনুরোধ করেন। তার ধারণা ছিল বিত্তশালী পরিবারের সঙ্গে সেই পরিবারের লোক ছাড়া তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। তিনি জানতেন না বাঙালি এক হয়ে গেছে আর মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটাতে জাতি এক পায়ে দাঁড়িয়ে গেছে।কলাগাছ দিলেও এবার পাস।
বঙ্গবন্ধু তাকে বলেছিলেন,তুমি দলে এমন কাউকে আনবানা যে;পরেরবার মৌলভীবাজার এসে দেখবো তুমিই দলে নাই। হয়েও ছিলো তাই।যে আজীজ বেগ মিত্র বাহিনীকে সাথে করে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরকে মুক্ত করেন।পশ্চিম বাজার খেয়াঘাটে মুক্ত মৌলভীবাজারের পতাকা উত্তোলন করেন, তিনি স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করেননি। অনাহারে অর্ধাহারে তিনি কয়েক বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন,তার পরিবারও এখন মরছে না খেয়ে ও বিনা চিকিৎসায়।
যিনি মুক্ত মৌলভীবাজারে ৮-১২ ডিসেম্বর বেসরকারি প্রশাসক ছিলেন।যার মাইকের ঘোষণা শুনে ৪ দিন মহকুমা চলেছে।সেই তাকে এবং তার অপর মুক্তিযোদ্ধা ভাইদের মধ্যে আলাদা ভাবে ব্যাংক ডাকাতির গল্প ফেঁদে রাতে তাদের মধ্যে গোলাগুলির ব্যবস্থা করে এক ভাইকে তার দলের মুক্তিযোদ্ধাদের গুলীতে মৃত্যু এবং অপর ভাই ফরিদ বেগের সাথে চিরস্থায়ী ভুল বুঝাবুঝির দ্বারা বেগ পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়।এনাম উল্লাহর নাত জামাই ও মেহের উল্লাহর জামাই হবিগঞ্জের মেজর জলিল।যিনি ছিলেন পরবর্তীকালে সেনা প্রধান হওয়া মইন উ আহমদের বড় ভায়রা ভাই।তারাও প্রতিক্রিয়াশীল ছিলেন।উপাধ্যক্ষ আবদুস সহিদ, সৈয়দ মহসিন আলী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ তার কর্মী ছিলেন। মিছিল মিটিং শেষে তাদেরকে চকলেট দিতেন বলে তিনি তাদেরকে চকলেটের কর্মী বলতেন।তাহলে আমরা তার অবস্থান অনুমান করতে পারি,তিনি কত মহান সংগঠক ছিলেন।
মুক্তিবাহিনীর হাতে একাত্তরের ঘাতক মেহের উল্লাহ নিহত হলে তার জামাই প্রতিশোধ নিতে রক্ষী বাহিনী প্রধান হয়ে এসে তাঁকে তিন দিন খাম্বার সাথে চৌমুহনায় বেঁধে রেখে নির্যাতন করে মৃত ভেবে মনু নদীতে ভাসিয়ে দেয়।
বেঁচে গিয়ে তিনি ঢাকায় পালিয়ে যান এবং কল্যাণপুরে এক বন্ধুর সাথে উঠেন। তাবলীগে যোগ দিয়ে জোব্বা ও টুপি দাঁড়িতে মুসল্লি সেজে বাঁচার ঢাল নেন। বঙ্গবন্ধুকে পিতার অধিক ভালোবাসতেন।এক নজর দেখার বাসনায় তদানীন্তন ক্রিসেন্ট লেকের পাড়ে এসে প্রাতঃ ও সান্ধ্য ভ্রমণ করেন। তিনি দেখেননি কিন্তু পিতা তার জোব্বাধারি সন্তানকে ঠিকই দেখে চিনে নেন।
তার সামনা দিয়ে স্বসম্মানে গণভবনে গাড়ির সারি ঢুকে যায়। মহান বেগ এই দিন একটু আনমনাই ছিলেন।অতিক্রমকালে নিরাপত্ত্বা রক্ষীদেরকে দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু তাকে তার কাছে সম্মানের সাথে হাজির করতে নির্দেশ দেন। বলেন-এই হুজুরকে আমার বেড রুমে সম্মানের সাথে পৌঁছে দিবা।ওরা তাকে বড় মাপের কোন অলি ভেবে সম্মানের সাথে নিয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর কাছে। গিয়ে দেখেন তিনি জামা কাপড় পাল্টাচ্ছেন। আদর মাখা এবার পিতার হুংকার ‘ তোমরা এভাবে সবাই হুজুর হয়ে গেলে আমি দেশ চালাবো কাদের নিয়ে।
এবার বেগ বলেন ,লিডার। আপনার রক্ষী বাহিনী আমাকেতো মেরেই ফেলছিলো। নদীতে ভেসে ভেসে বেঁচে আছি। তাৎক্ষণিক তোফায়েল আহমেদ সাহেবকে ডেকে বঙ্গবন্ধু তাকে মামলা থেকে নিষ্কৃতির ব্যবস্থা করেন।পকেট থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে প্রতি মাসে ৫০০ করে নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।বঙ্গবন্ধু যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন অব্যাহত ছিলো এই দান।তাইতো তিনি সুমহান পিতা। আর এই আমাদের মহান আজীজ বেগ।পরে না খেয়েই মরতে হয়েছে তাকে।এখন তার ছেলে মেয়ে স্ত্রী না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মরছে সে কথা আগেই বলেছি।তাদেরকে যথাযত সাহায্য করতে পারি না বলে খবরও রাখি না অনেকদিন।অনেক দিন মুক্তিযোদ্ধা সনদ পর্যন্ত তার করা যায়নি।বর্তমান সরকারের আমলে হয়েছ্র কি না জানি না।তবে এই মহান বীরের পরিবেরর পাশে কাউকে সে ভাবে পাওয়া যায়নি।তার কর্মীরা এত বড় হয়ে গিয়েছিলেন যে,তাকে পাগল বলতেন তারা।জীবিত কালে তিনিও কারো কাছে যাননি।সামান্য সুবিধার বিনিময়ে তিনি রাগীব আলী সাহেবের সেবা করেছেন অনেক দিন। সেখানেও জুটেছে বদনাম। এতদিনে জানিনা তার পরিবারে কে আছে কে নাই?
আজ মৌলভীবাজার মুক্ত দিবসে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আজিজ বেগের প্রতি সম্মান অবিরাম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD