বৃহস্পতিবার, ১১ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
সাহিত্যে রহিম করিম ওয়ার্ল্ড প্রাইজ পেলেন এস এম শাহনূর পর্যটন পুলিশের মিডিয়া উইংস প্রধান আবদুল হালিমকে কবি সাংবাদিকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ভুলে ভরা বাংলাদেশের নদী বিষয়ক গ্রন্থগুলো -হাসনাইন সাজ্জাদী বৃক্ষরোপণ ও সবজি চাষে জোর দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিউইয়র্ক বইমেলায় সাহিত্যমান বিতর্ক এখন বিজ্ঞান কবিতার কাল -হাসনাইন সাজ্জাদী ‘পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে’ আমার কয়েকটি কথা -হাসনাইন সাজ্জাদী আনন্দকাব্য না বিজ্ঞানচিন্তা? বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে নির্দেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির মিডিয়া শাখায় নতুন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল হালিম। ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরে
অসমাপ্ত কবিতা। হোসনে আরা হেনা

অসমাপ্ত কবিতা। হোসনে আরা হেনা

অসমাপ্ত কবিতা। হোসনে আরা হেনা

 

অসমাপ্ত কবিতা
হোসনে আরা হেনা

আমার অসমাপ্ত কবিতাটি
আমি আজও সম্পূর্ণ করতে পারিনি।

কবিতার ভগ্নাংশগুলো ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে
আছে আমার হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে, হৃদয়ের
ঘর গেরস্থালির এখানে সেখানে।

আমার কবিতার ভগ্নাংশগুলিকে কখনো আমি
নিঃসীম আকাশের বুকে উড়ে যেতে দেখি, আশার
নীলাভ পালক ছড়িয়ে ছড়িয়ে আমি পাখি
হয়ে ডানা মেলে দিই,
শূন্যতার কষ্টের শিশির মেখে আমার ডানা দু’টো
ক্লান্ত হয়ে পড়ে- অধরাই থেকে যায় আমার অসমাপ্ত
কবিতা মেঘের আড়ালে।

আমার ছিন্ন কবিতা কখনো মাধবীলতার বুকে এসে
মুখটি লুকোয়, কখনো ঘন সবুজ পাতার বুকে
মঞ্জরিত হতে থাকে,

কখনো স্কোয়ার বারান্দার
হলুদ ফুলের টবে এসে লুটোপুটি খায়।

আমি যখনি তাকে স্পর্শ করতে যাই জড়োয়া
গহনার পরিপূর্ণ সেটটি হাতে নিয়ে তখনি সে
ঐন্দ্রজালিক প্রজাপতি হয়ে উড়ে যায় জ্যোৎস্নার
রূপালী শরীরে।
আমার অসম্পূর্ণ কবিতা তখন জোনাকির ঝিকিমিকি
আলো হয়ে যায়।

আমি উদ্ভাসিত চোখে তার দিকে তাকালেই সে তখন
মিটিমিটি তারা হয়ে নীলিমার বুকে ফুটে থাকে
আমার নাগালের বহু বহু দূরে।

কখনো নদীর জলে নীল পদ্মের মতো ভেসে ওঠে
আমার অসম্পূর্ণ কবিতা-
আমি তখন দুঃখিনী
জলপরী হয়ে দু’হাতে গহন নদীর জল সরাতে
সরাতে ভেসে যাই তার কাছাকাছি, অমনি সে
পানকৌড়ি হয়ে ডুব দেয় অতল জলে।
কখনো সম্পূর্ণতা পায় না আমার কবিতা।

কখনো আচমকা বর্ষার জলের ধারায় আমি
তাকে দেখতে পাই, আমি তাকে ধরবার জন্য
প্রাণপণ জলবতী মেঘ হয়ে যাই। আমার শক্ত
মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে নিজেকে সবেগে মুক্ত করে সে
কী সাবলীল গলতে শুরু করে!

আমার কবিতা অধরাই থেকে যায়!

আমি তখন ওয়ার্ডসওয়ার্থের সেই অদেখা
সলিটারি রিপার হয়ে যাই।
কন্ঠে তুলে নিই সেই বিষণ্ণ মেয়েটির মতো
বিষাদ সঙ্গীত।

আমার অসম্পূর্ণ কবিতা আমাকে কষ্ট দেওয়ার
জন্য নির্মম হৃদয় নিয়ে রোদেলা আকাশে স্বার্থপরের
মতো হেসে ওঠে।
আমি তখন প্রজ্জ্বলিত সূর্যের উদ্দেশ্যে দাউ দাউ
পথে হেঁটে যাই, মধ্যপথ থেকেই ফিরে আসি আমি জ্বলন্ত অঙ্গার হয়ে!

আমার অসমাপ্ত কবিতা কখনো বুকের শোণিতে
কাঁটা হয়ে বিঁধে থাকে, আমার কবিতা পূর্ণতা
পায় না আর সুবর্ণ গোলাপের নিটোল
অবয়বে।

কখনো নিশুতি রাতের কান্নার মাঝে ঠায় অন্ধকার
হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে আমার কবিতা।

আমার অসম্পূর্ণ কবিতাকে আলোকিত করার জন্য
আমি তখন কল্যাণীয়া হাতে মঙ্গলদীপ জ্বালিয়ে
রাখি স্বনিষ্ঠ মননে।

বৈরি বাতাস এসে এক ফুৎকারে নিভিয়ে দেয় আমার
প্রজ্জ্বলিত মমতার শিখা।

আমার কবিতার ভগ্নাংশগুলো কখনোই আর
ঐকমতের সুশীতল ছায়ায় এসে দাঁড়াতে পারে না।

আমার অসম্পূর্ণ কবিতাটি প্রসব বেদনায়
ছটফট করতেই থাকে।
ভূমিষ্ঠ হয় না আর আলোকিত পৃথিবীর
নিবিড় ছায়ায়!

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD