শনিবার, ০২ Jul ২০২২, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

ইতিহাসের আলোকে মদিনা সনদ

ইতিহাসের আলোকে মদিনা সনদ

মদিনা সনদ

মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুমঃ যারা বলেন, “মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চলবে”, আশাকরি মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাতে তাদের কাউকে বেগ পেতে হবে না, কারন যেসব বন্ধু বা বিবাদমান গোত্রের বিষয়ে এই সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিমধ্যে তারা ইতিহাসের পাতা থেকেও প্রায় মুছে গেছে। সনদে উল্লিখিত বিভিন্ন পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়াও কোন দেশ, অঞ্চল বা সমাজে প্রচলিত নেই।

যারা “মদিনা সনদ” নাম শুনলেই মনে করেন, এটি যে কোন দেশের জন্য একটি আদর্শ সংবিধান, তারা মূলতঃ মদিনা সনদের ধারা, উপধারা এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণাও রাখে না । ইতিহাসের আলোকে মদিনা সনদ।

৬২২ খ্রীস্টাব্দের ২৪শে সেপ্টেম্বর ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মদিনা নগরীতে হিজরত করেন এবং মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। এসময় সেখানে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায় গুলোর মধ্যে গোষ্ঠীগত হিংসা-বিদ্বেষ এবং কলহ বিদ্যমান ছিল। তাই কলহে লিপ্ত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাতৃত্ব্য ও সম্প্রীতি স্থাপন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হযরত মুহাম্মদ (সা:) ৪৭ ধারার একটি সনদ বা সংবিধান প্রণয়ন করেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে মদিনার সনদ নামে পরিচিত।

এর প্রথম ১০ ধারায় বলা হয় যে, মুহাজির (দেশত্যাগী বা যারা মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিল), বনু আউফ, বনু সাইদা, বনু হারিস, বনু জুশাম, বনু নাজ্জার, বনু আমর, বনু নবীত ও বনু আউস পূর্বহারে মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত নিয়মনীতি এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পণের মাধ্যমে বন্দীদের মুক্ত করবে।

[   মহাবিশ্ব পদার্থ বিদ্যার সূত্র মেনে চলেছে – এনামুল হক   ]

১১ থেকে ২০ ধারায় মুসলমানদের পারষ্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কিত আইন বিধৃত হয়। ২১ থেকে ২৬ ধারায় হত্যাকারীর শাস্তি, কোনো মুসলমান কোনো অন্যায়কারীকে আশ্রয় দিলে তার শাস্তি, কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে তার মীমাংসা পদ্ধতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ক আইন সন্নিবেশিত হয়।

২৭ থেকে ৩৬ ধারায় সন্নিবেশিত হয় বিভিন্ন গোত্রের স্বরূপ সম্পর্কিত বিধান। পরবর্তী ধারাসমূহে যুদ্ধনীতি, নাগরিকদের ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিজ নিজ ব্যয় নির্বাহ, এ সনদে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কেউ যুদ্ধে লিপ্ত হলে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা, বন্ধুর দুষ্কর্মের দায়, যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহ, নাগরিকের অধিকার, আশ্রয়দানকারী ও আশ্রিতের সম্পর্ক, নারীর আশ্রয়, সনদের স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে শান্তি ভঙ্গের আশংকা দেখা দিলে করণীয়, কুরাইশদের ব্যাপারে ব্যবস্থা, মদীনার উপর অতর্কিত আক্রমণ হলে করণীয় ইত্যাদি সন্নিবেশিত হয়। ঐতিহাসিক পি.কে. হিট্টির মতে-“মদীনা প্রজাতন্ত্রই পরবর্তীকালে ইসলামী সাম্রাজ্যের ভিত্তিমূল স্হাপন করে।”

উক্ত সংবিধানে সকল পক্ষ মেনে নিয়ে স্বাক্ষর দান করেছিল। আদিতে সনদটি আলাদাভাবে সংরক্ষণ করেছিলেন আবু উবাইদ ও ইবনে হিশাম/ইবনে ইসহাক। ধারাগুলো প্রধানত: ইবন হিশাম/ইবন ইশাকের দলিল থেকে নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সূত্রদু’টির মধ্যে কিছু পার্থক্যও রয়েছে; আবু উবাইদ-এর দলিলে কিছু ধারার উল্লেখ নেই।

আমরা নি:সন্দেহ নই, আবু উবাইদ-এর ধারাগুলোতে ইবনে ইসাহাক/ইবনে হিসাম আরো ধারা যোগ করেছেন, নাকি সীরাত-এর ধারাগুলো থেকে কিছু মুছে দেয়া হয়েছে। তবে এই অনুবাদে মূল বক্তব্য অনেকটা পরিস্কার হবে আশা করি।দু’এক জায়গায় কিছুটা অস্পষ্টতা আছে, সেটা মূলতঃ ওই দুই সূত্রের তফাতের কারণে।

ধারাগুলোতে “বিশ্বাসী” শব্দে কখন ইহুদী আর কখন মুসলমান বোঝানো হয়েছে তা বাক্য থেকে বুঝে নিতে হবে। “গঠনতন্ত্র” ও “সংবিধান” সমার্থক শব্দ, যা রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার মূল দলিল। ধারাগুলো হল:-

১। ইহা আল্লাহ’র রসুল মুহম্মদের পক্ষ হতে – কুরাইশদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ও আল্লাহ’র প্রতি আত্মসমর্পণকারী,
– এবং –
মদীনাবাসী ও যারা তাদের অধীনস্ত বা তাদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে, তাদের (এই দুই পক্ষের) মধ্যে ব্যবস্থাপনার জন্য ।

২। তারা সকলে মিলে পৃথিবীর অন্য সবার চেয়ে আলাদা একটি ‘উম্মা’ (জাতি)।

৩। কুরাইশ হতে আগত মুহাজিরেরা তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে, যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে ও যৌথভাবে মুক্তিপণ দিয়ে তাদের বন্দীদিগকে ছাড়িয়ে আনবে যেন মুসলিমদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

৪। এবং বনি আউফ গোত্র তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে, সেইভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

৫। এবং বনি হারিথ গোত্র তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে সেভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

৬। এবং বনি সাইদা গোত্র তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে সেভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

৭। এবং বনি জুশাম গোত্র তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে সেভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

৮। এবং বনি নাজার গোত্র তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে সেভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

৯। এবং বনি আমর বিন আওফ তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে সেভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

১০। এবং বনি নাবিথ গোত্র তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে সেভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

১১। এবং বনি আল আওস গোত্র তাদের বিজয়ের দায়িত্বে থাকবে ও আগে যা বলা হয়েছে সেভাবে যৌথভাবে রক্তমূল্য পরিশোধ করবে। (গোত্রের) উপদলগুলি নিজেরা মুক্তিপণ দিয়ে নিজেদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে আনবে যেন বিশ্বাসীদের পারস্পরিক ক্রিয়াকর্ম ন্যায়ের ভিত্তিতে হতে পারে।

১২ক। বিশ্বাসীগণ নিশ্চয়ই কাউকে ঋণের চাপে পর্যুদস্ত রাখবে না – রক্তমূল্য ও মুক্তিপণের ব্যাপারে তারা ন্যায় রক্ষা করে চলবে।

১২খ। কোনো বিশ্বাসীই অন্য বিশ্বাসী বা তাদের প্রতিনিধিত্বকারীদের সাথে (অন্যায়) চুক্তিবদ্ধ হবে না।

১৩। বিশ্বাসীরা নিশ্চয়ই বিদ্রোহী, ডাকাত, প্রতিজ্ঞার খেয়ানতকারী, বিশ্বাসীদের মধ্যে নষ্টামী সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। এই ধরণের কেউ যদি তাদের পুত্রও হয় তবুও তার বিরুদ্ধে তারা একত্রে দাঁড়াবে।

১৪। কোনো কাফেরকে খুন করার বদলা নেয়ার জন্য কোনো মুসলিম কোনো মুসলিমকে খুন করবে না – কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে কোনো কাফিরকে সাহায্যও করবে না।

১৫। আল্লাহ’র প্রতিরক্ষা এক। কাউকে রক্ষা করিয়া কোনো বিশ্বাসী সকলকে দায়বদ্ধ করিতে পারে (এটা অস্পষ্ট)। পৃথিবীর সকলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসীরা নিশ্চয়ই ভাই।

১৬। ইহুদীদের মধ্যে যারা আমাদের অনুগত হবে তাহারা সাম্য ও সাহায্য পাবে। তারা অত্যাচারিত হবে না কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করা হবে না।

১৭। নিশ্চয়ই বিশ্বাসীদের শান্তি এক। আল্লাহ’র পথে কোনো যুদ্ধ হলে কোনো বিশ্বাসী অন্য বিশ্বাসীরা ব্যতীত (কোনো শত্রুর সাথে) শান্তি স্থাপন করবে না যদি না সেই শান্তি সকলের প্রতি সমান ও বাধ্যতামূলক হয়।

১৮। নিশ্চয়ই আমাদের যোদ্ধাদেরকে প্রতিস্থাপন করা হবে (অর্থাৎ একদল যুদ্ধ করে আসবে অন্যদল যুদ্ধে যাবে)।

১৯। আল্লাহ’র পথে (নিজেদের কারো) রক্তপাত হলে নিশ্চয়ই সকল বিশ্বাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিশোধ নেবে।

২০ক। নিশ্চয়ই ধর্মপ্রাণ বিশ্বাসীরা শ্রেষ্ঠ ও সরলতম নেতৃত্বের অনুসারী।

২০খ। এ বিষয়ে কোনো মুশরিক কোনো কুরাইশের জীবন ও সম্পত্তিকে প্রতিরক্ষা দিতে পারবে না এবং মুসলমানদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।

২১। যদি কেউ কোনো মুসলিমকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করে এবং তাহা প্রমাণিত হয়, তবে প্রতিশোধ হিসাবে তাহাকে হত্যা করা হবে, যদি না নিহতের উত্তরাধীকারীরা (রক্তমূল্যে) রাজী হয়। এবং নিশ্চয়ই এই বিষয়ে সকল বিশ্বাসী ঐক্যবদ্ধ থাকবে, অন্য কিছুই তাদের জন্য বৈধ হবে না।

২২। এই দলিলে (সহিফা-তে) যা কিছু আছে তা যেসব বিশ্বাসীরা গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ ও কেয়ামতে বিশ্বাস করেছে, তাদের জন্য কোনো খুনীকে রক্ষা করা বৈধ হবে না। খুনীকে কেউ সাহায্য করলে ও আশ্রয় দিলে কেয়ামতের দিনে তার উপর আল্লাহ’র অভিশাপ ও ক্রোধ বর্ষিত হবে – এবং তার কাছ থেকে কোনো প্রতিদান গ্রহণ করা হবে না।

২৩। যদি তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হয় তবে আল্লাহ ও মুহম্মদের সিদ্ধান্ত জারী হবে।

২৪। এবং নিশ্চয়ই ইহুদীরা বিশ্বাসীদের সাথে একত্রে যুদ্ধ করলে নিজেদের খরচ নিজেরা বহন করবে।

২৫। এবং নিশ্চয়ই বনি আউফ গোত্রের ইহুদীরা ও বিশ্বাসীরা একত্রে একটি উম্মা হিসাবে গণ্য হবে। কারণ তারা তাদের ধর্মে এবং মুসলিমেরা তাদের ধর্মে – একটি গোত্রের প্রকৃত সদস্য। কিন্তু কেউ চুক্তিভঙ্গ বা অত্যাচার করলে সে তার নিজের ও তার পরিবারের উপর অত্যাচার করলো।

২৬। নিশ্চয়ই বনি নাজ্জার গোত্রের ইহুদীরা বনি আউফ গোত্রের ইহুদীদের মতই অধিকার পাবে।

২৭। নিশ্চয়ই বনি আল হারিথ গোত্রের ইহুদীরা বনি আউফ গোত্রের ইহুদীদের মতই অধিকার পাবে।

২৮। নিশ্চয়ই বনি সাইদা গোত্রের ইহুদীরা বনি আউফ গোত্রের ইহুদীদের মতই অধিকার পাবে।

২৯। নিশ্চয়ই বনি জুসান গোত্রের ইহুদীরা বনি আউফ গোত্রের ইহুদীদের মতই অধিকার পাবে।

৩০। নিশ্চয়ই বনি আল আউস গোত্রের ইহুদীরা বনি আউফ গোত্রের ইহুদীদের মতই অধিকার পাবে।

৩১। নিশ্চয়ই বনি তালাবা গোত্রের ইহুদীরা বনি আউফ গোত্রের ইহুদীদের মতই অধিকার পাবে।কিন্তু কেউ চুক্তিভঙ্গ বা অত্যাচার করলে সে তার নিজের ও তার পরিবারের উপর অত্যাচার করল।

৩২। এবং জাফনা (গোত্র) নিশ্চয়ই তালাবাহ গোত্রেরই অংশ – তাদের মতই।

৩৩। নিশ্চয়ই বনি আশ শুতাইবা গোত্র বনি আউফ গোত্রের ইহুদীদের মতই অধিকার পাবে। সকলে (চুক্তি) মেনে চলবে, কেউ ভঙ্গ করতে পারবে না।

৩৪। নিশ্চয়ই তালাবাহ গোত্রের উপদলগুলি প্রধান দলের সমান অধিকার পাবে।

৩৫। নিশ্চয়ই ইহুদীদের সকল উপদলগুলি প্রধান দলের সমান অধিকার পাবে।

৩৬ক। এবং নিশ্চয়ই তাদের কেই মুহম্মদের অনুমতি ব্যতীত কোনো যুদ্ধে যেতে পারবে না।

৩৬খ। কেউ জখম হলে তার বদলা নেয়ার ব্যাপারে কেউ বাধা দিতে পারবে না। হত্যার জন্য হত্যাকারী নিজে ও নিজের পরিবারসহ দায়ী থাকবে – অন্যথায় অবিচার হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা এইগুলি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে।

৩৭ক। এবং নিশ্চয়ই ইহুদীরা বহন করবে তাদের (যুদ্ধের) খরচ ও মুসলিমরা বহন করবে তাদের খরচ। তারা একত্রে যুদ্ধ করবে তাদের বিরুদ্ধে যারা এই দলিলের (সহিফা’র) অংশীদার তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদের পরস্পরের সহিত পরামর্শ করবে ও পরস্পরের প্রতি শুভেচ্ছা রাখবে। সকলে (চুক্তি) রক্ষা করবে, কেউ লংঘন করবে না।

৩৭খ। নিশ্চয়ই কেউ বন্ধুদের প্রতি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে না এবং অত্যাচারিতকে সাহায্য করা হবে।

৩৮। এবং নিশ্চয়ই ইহুদীরা বিশ্বাসীদের সাথে একত্রে যুদ্ধ করলে নিজেদের খরচ বহন করবে-(হুবহু ধারা ২৪)

৩৯। এবং নিশ্চয়ই এই দলিলে (সহিফা-য়) অংশগ্রহণকারীদের জন্য মদীনার উপত্যকা সংরক্ষিত এলাকা।

৪০। এবং নিশ্চয়ই যাকে প্রতিরক্ষা দেয়া হয়েছে তাকে আদি প্রতিরক্ষিত ব্যক্তির মতই গণনা করা হবে। তাদের কোনো ক্ষতি করা হবে না এবং তারাও চুক্তি লংঘন করবে না।

৪১। এখানকার আদি অধিবাসীদের অনুমতি ব্যতীত কাউকে আশ্রয় দেয়া যাবে না।

৪২। এবং নিশ্চয়ই এই দলিলে (সহিফা-য়) অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যদি ঝগড়া বা হত্যা সংঘটিত হয়, যা হতে সমস্যার উদ্ভব হতে পারে, তা আল্লাহ এবং আল্লাহ’র রসুল মুহম্মদের (আল্লাহ তাঁহাকে পছন্দ ও রক্ষা করুন) কাছে আনা হবে। এই দলিলকে যারা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে আল্লাহ তাদের রক্ষাকর্তা।

৪৩। এবং নিশ্চয়ই কুরাইশদেরকে এবং তাদের সাহায্যকারীদেরকে কোনো প্রতিরক্ষা দেয়া হবে না।

৪৪। এবং নিশ্চয়ই মদীনাকে আক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে তারা (মুসলিম ও ইহুদীরা) পরস্পরকে সাহায্য করবে।

৪৫ক। (এটা আবু উবাইদ থেকে নেয়া হল কারণ ইবন হিশাম/ইবন ইশাকের ভাষা অস্পষ্ট) যদি মুসলিমরা তাহাদের কোনো বন্ধু-গোত্রের সাথে ইহুদীদেরকে শান্তি স্থাপনের আহ্বান জানায় তবে ইহুদীরা তা করবে। অপরপক্ষে ইহুদীরাও যদি একই আহ্বান করে, তবে যুদ্ধরত (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) কোনো গোত্র ব্যতীত অন্য সকল মুসলিমদের উপর তা বাধ্যতামূলক হবে।

৪৫খ। প্রতি দলের দায়িত্বে থাকবে (শহরের) যে অংশ তাদের মুখোমুখী।

৪৬। এই দলিলের (সহিফা’র) লংঘন না করে অন্যান্য শরিকদের প্রতি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে দলিলের অংশীদার হিসাবে আল আউস গোত্রের ও তাদের উপদলের ইহুদীরা একই অধিকার পাবে। অন্যায়কারীরা নিজের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই পায় না এবং নিশ্চয়ই এই দলিলকে যারা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে আল্লাহ তাদের রক্ষাকর্তা।

৪৭।  এবং নিশ্চয়ই এই দলিল (কিতাব) কোনো অত্যাচারী বা প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীকে রক্ষা করবে না । যারা (যুদ্ধে) যাবে তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে; যে মদীনাতে রয়ে যাবে, তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে; দেয়া হবে না শুধুমাত্র অত্যাচারী বা প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীকে।

এবং নিশ্চয়ই এই দলিলকে যারা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে আল্লাহ তাদের রক্ষাকর্তা, মুহম্মদের মতই, আল্লাহ তাঁকে পছন্দ ও রক্ষা করুন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD