মঙ্গলবার, ২৩ Jul ২০২৪, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

ব্যাক্তিত্বের প্রেমে -নিলীমা জাহান

ব্যাক্তিত্বের প্রেমে -নিলীমা জাহান

ব্যাক্তিত্বের প্রেমে -নিলীমা জাহান

আমরা বলি ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়ি?
আসলে কি আমরা ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়ি?
সেই ব্যক্তির মধ্যে ব্যক্তিত্ব আদৌ কি আছে? একজন মানুষের ভাবনা-লেখা পড়ে তার
আবেগ ও ভাষার প্রেমে পড়ে গেলাম।
কারো গুছানো কথা শুনে সেই কথার প্রেমে পড়ে গেলাম।
কারো দায়িত্ব ও যত্ন নেওয়া দেখে তার দায়িত্বের প্রেমে পড়ে গেলাম।

আমরা মনে করি একজন মানুষ অনেক সুন্দর করে গুছিয়ে লিখে নিজের মনের ভাষা প্রকাশ করেন এর সাথে অনেকের জীবন হয়তো মিলে যায়। তাতেই আমরা মনে করি সত্যিই মানুষটা তার লেখার মত সুন্দর তার মানসিকতা তার লেখার মত যত্নশীল। তাই আমরা তার ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়ে যাই।

সত্যি বলতে একজন লেখক তার লেখার মত সুন্দর ব্যক্তিত্ব একদমই হয় না। আমার দেখা একজন ব্যক্তি আছে যার অনেক লেখা আছে তার লেখাগুলো পড়ে যেকোনো‌ বয়সের নারী তার প্রেমে পড়ে যাবে কিন্তু সত্যি বলতে তিনি একদমই তার লেখার মত চরিত্র বহন করেন না।

তার লেখায় যেসব চরিত্র উল্লেখ করা হয় অসম্ভব সুন্দর সেসব চরিত্র। প্রতিটা চরিত্রে তিনি যেভাবে তার নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং প্রতিটা মেয়ে ও নারীকে সম্মান দিয়েছেন ভালোবেসেছেন যত্ন নিয়েছেন বাস্তব জীবনে তিনি ততটাই তার চরিত্র কে নিজেই অপমান করেছেন ততটাই অবহেলা করেছেন প্রতিটা মেয়ে ও নারীকে যারা তার কথা শুনে লিখা পড়ে তার ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়েছিলেন।

তিনি রাত জেগে বই পড়ে শুনিয়েছিলেন কোনো মেয়েকে। তাকে এক রাজ্যের স্বপ্ন ও দেখিয়েছিলেন। সেই মেয়েকে বই পড়তে শিখিয়েছিলেন। কিছু বই তিনি নিজেই নির্বাচন করে দিয়েছিলেন সেই মেয়েকে। আর সেই মেয়ে যতগুলো বই পড়ছে প্রতিটা বই, প্রতিটা শব্দতে, প্রতিটা লাইনে সেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব খুঁজে পেয়েছিলেন এর সাথে সাথে তার ভালোলাগা, ভালোবাসা, সম্মান এবং প্রেম আরো বেশি তীব্র হয় গিয়েছিল লেখক এর প্রতি।

সেই ব্যক্তি সেই মেয়েকে রাত জেগে বই পড়া তার সাথে গল্প করা, হাতে চুড়ি পরা, খোলা চুলে কপালে টিপ পরা, নিজেকে আয়নার সামনে বারবার নিয়ে যাওয়া গুছিয়ে রাখা শিখিয়েছিলেন।
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস আজ সেই মেয়ে ব্যর্থ প্রেমিকা হয়ে সেই লেখকের প্রেমে আজ নিজেকে প্রাক্তন বলে দাবি করে।

নিজেকে প্রাক্তন বলে দাবি করা মেয়েটা আজও জানে না কি তার অপরাধ ছিল?
আজও সেই মেয়েটা বইয়ের পৃষ্ঠায় সে ব্যক্তি কে খুঁজে বেড়ায়। সে বোকা মেয়েটা আজও একা একা বৃষ্টিতে ভেজে সে ব্যক্তির কথা ভেবে। আজও সেই মেয়েটা খোলা চুলে
টিপ পড়ে আয়নার সামনে বসে সেই ব্যক্তির ফিরে আসার অপেক্ষা করে। আজও সেই মেয়েটা আকাশের দিকে তাকিয়ে গুনগুন করে গান করে। নিজের কষ্টকে সবার সামনে থেকে আড়াল করে। প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে যুদ্ধ করে মনের সাথে যুদ্ধ করে। একটা জিনিস হয়তো ভালো হয়েছে সেই ব্যক্তিটা চলে যাওয়ার পর থেকে মেয়েটা ভীষণ রকম এক যোদ্ধা নারী হয়ে উঠেছে।

কিন্তু সেই লেখক আজও তার ব্যক্তিত্ব বহন করে বেড়াচ্ছে। অথচ তিনি যে একজন খুনি সেই দাগ টুকু তার গায়ে আজও কিন্তু লাগেনি।
প্রতিটা মানুষ তার ব্যক্তিত্বের মত সুন্দর চরিত্র বহন করেন না ব্যক্তিগত জীবনে।

তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেল যে মানুষ যা বলে যা লিখে যে ভাবনা প্রকাশ করে মানুষ ঠিক তার বিপরীত চরিত্র বহন করে। মানুষ যতো বেশি মিথ্যা ততো বেশি সুন্দর হয় তার ব্যক্তিত্ব

নিলীমা জাহান

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD