রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ১২:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
আকাশ জুড়ে বঙ্গবন্ধু -২।হাসনাইন সাজ্জাদী হাসনাইন সাজ্জাদী’র কবিতা -আমি বিজয় ঘোষণা করছি ত্রিপুরার বিলোনীয়া (রাজনগর,চোত্তাখোলা) সীমান্তে মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান এগিয়ে চলেছে ত্রিপুরার সাহিত্যচর্চা মিষ্টি নোয়াতিয়া পাড়ার চাঁদ গ্রন্থের উপর আলোচনা ও অশ্রুত সাহিত্যপত্র পুরস্কার প্রদান।পেলেন চার বাংলাদেশি কবি ও সংস্কৃতিকর্মী সাহিত্যে রহিম করিম ওয়ার্ল্ড প্রাইজ পেলেন এস এম শাহনূর পর্যটন পুলিশের মিডিয়া উইংস প্রধান আবদুল হালিমকে কবি সাংবাদিকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ভুলে ভরা বাংলাদেশের নদী বিষয়ক গ্রন্থগুলো -হাসনাইন সাজ্জাদী বৃক্ষরোপণ ও সবজি চাষে জোর দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিউইয়র্ক বইমেলায় সাহিত্যমান বিতর্ক
বইমেলায় করণীয় নিয়ে গবেষক এস এম শাহনূর

বইমেলায় করণীয় নিয়ে গবেষক এস এম শাহনূর

বইমেলায় কার কী করণীয়? – এস এম শাহনূর

ঋতুরাজ বসন্তের শুরু,সেই সাথে শুরু হলো বাঙালির সেরা উৎসব বইমেলা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ ফেব্রুয়ারী অমর একুশে বইমেলা ২০২২ এর শুভ উদ্বোধন করলেন। প্রতিদিন বাড়ছে দর্শনার্থী, যুক্ত হচ্ছে নতুন বই, বাড়ছে কবি লেখকদের আনাগোনা। মেলায় করোনাকালীন সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত, তবে সকলেরই মাস্ক পরিধান করা উচিৎ। ভাসমান হকারের কথা বাদ দিলে মেলায় চার শ্রেণির মানুষ দেখতে পাবেন। এঁরা হলেন উৎসুক দর্শনার্থী, মুগ্ধ পাঠক,নিবেদিত বিক্রয়কর্মী ও পরোপকারী লেখক সমাজ। উক্ত চার শ্রেণির মানুষের কাছে আমার কিছু নিবেদন।

১। সকল প্রকার দর্শনার্থীদের মনে রাখতে হবে এটি বিশেষ এক ধরনের মেলা,যেখানে মহাকালের জ্ঞান পুঞ্জিভূত। আপনি ইচ্ছে করলে বই না কিনেও বহুকালের পুঞ্জিভূত জ্ঞানসাগরে ডুব দিয়ে আসতে পারেন। এতে আপনার শরীরের ময়লা পরিস্কার না হলেও মন পরিশুদ্ধ হবে।

২। মেলায় বই কেনার উদ্দেশ্যে যারা যান,সবাই ব্যক্তি জীবনে বইয়ের পাঠক। এঁরা সারা বছরই কোনো না কোন বই কিনে থাকেন। বইমেলার জন্য নূন্যতম একটি বাজেট রাখেন।মেলা থেকে নিজের জন্য, পরিবার, বন্ধু ও নিকটাত্মীয়দের জন্য পছন্দের বই সংগ্রহ করেন। নৈমিত্তিক প্রয়োজনে আপনি অনেক পয়সা খরচ করেন,এবার বইমেলায় অন্যবারের চেয়ে ২/৪টি বই বেশি কিনুন। ভাবছেন, পছন্দের বইটির মূল্য বেশি? মনে রাখুন, আর সবকিছুর সাথে পাল্লা দিয়ে বইয়ের মূল্য বাড়ানো হয়না। আরেকটি কথা,আপনার পরিচিত বা প্রিয় লেখকের সাথে দেখা হলে বিনামূল্যে বই আশা করবেন না। এটা আপনার পাঠক চিত্তকে অপমান করার শামিল।

৩। দেশের স্বনামধন্য প্রকাশক,পরিবেশক ও বই বিক্রেতাগণের পাশাপাশি বহু সংগঠনেরও মেলায় স্টল রয়েছে। নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে বিপণীগুলো। মেলা উপলক্ষে অনুসন্ধিৎসু পাঠক ,ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে প্রায় সকল স্টলেই খন্ডকালীন স্মার্ট/বিনয়ী অতিরিক্ত বিক্রয়কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।আপনাকেই বলছি, মনে রাখবেন বই এমন কোনো পণ্য নয় যে,পঁচে যাবে,গলে যাবে, লোকসান হবে,কাস্টমারকে জোরপূর্বক গলাধঃকরণ করাতে হবে। বইক্রেতা কখনো কাস্টমার নয়। ব্যবসা বা শুধু মুনাফা অর্জনের জন্য কোন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টল বরাদ্দ নেননি। ব্যবসার সাথে ব্যবসায়িক সুনাম ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

৪। যে কোন সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রতিভাবান মানুষটি কিন্তু একজন কবি,একজন লেখক, একজন গবেষক ও একজন শিল্পী। যাঁরা নিজের জন্য নয় বরং সময়ের প্রয়োজনে পরার্থে নিজের মেধা,সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করেন। বিনিময়ে যা চান,তা অতি নগণ্য। যা চান, তার নাম সুনাম ও স্বীকৃতি। বইমেলার আরেক নাম লেখক পাঠক ও প্রকাশকের মিলন মেলা। এখানে প্রিয় লেখকের হাত থেকে অটোগ্রাফ সম্বলিত বই নেওয়া যায়।সরাসরি ভাব বিনিময়ের সুযোগ থাকে। লেখক মাত্রই মনে রাখি, পরিচিত কাউকে নিজের বই কেনার জন্য পিড়াপিড়ি নয়। তবে চাইলে আপনার উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ ছাড়ে তাকে বইটি দিতে পারেন। এতে লেখকের প্রতি পাঠক/ক্রেতার অতিরিক্ত শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ বাড়বে।

অমর একুশে বইমেলার সুফল জাতীয় জীবনে প্রতিফলিত হোক।জাতি হোক আলোকিত।

লেখক: এস এম শাহনূর
কবি ও গবেষক।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD