সোমবার, ০২ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
জুড়ীর অজ্ঞাত শহিদ শুয়ে আছেন শিলচরে,মুক্তিযুদ্ধ ৭১।নিউজ শিলচর স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে গবেষক এস এম শাহনূরের জন্মদিন পালন ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ পুলিশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ থেকে ৮ সপ্তাহের সার্জেন্ট নবায়ন সার্টিফিকেট কোর্স শুরু মুয়াজ্জিন হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি অগ্রিম জামিনে এসে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি বঙ্গবন্ধুকে ট্রাফিক পুলিশের হৃদয়ে ছড়িয়ে দিতে নানা আয়োজন অদ্ভূত প্রেম।।ফেরদাউসী কুঈন জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর জন্মদিনে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা -বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল টিডিএস গ্রান্ড কল্যাণ ও জাতীয় শুদ্ধাচার বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত তারাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত চারতলা ভবনের উদ্বোধন বেলাবোতে বিএমইউজে’র কমিটি গঠিত। আলি সভাপতি আলমগীর সম্পাদক
আগামী দিনের পৃথিবী -শাহাদাত হোসেন

আগামী দিনের পৃথিবী -শাহাদাত হোসেন

আগামী দিনের ধর্ম বিহীন পৃথিবী
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
মানুষের মন দুই ধরনের,
১-পরনির্ভরশীল বদ্ধমন
২-স্বাধীন মুক্তমন।

আমাদের এই মহাবিশ্ব সীমাহীন, বাধাহীন, অফুরন্ত সম্প্রসারণশীল, অনন্ত অসীম এক স্বাধীন জগত । যে জগতের নাই কোন স্রষ্টা, নাই কারো হুকুমের বিধি নিষেধ । তাইতো সেখানে নিরবচ্ছিন্ন চলার পথ বাধাগ্রস্ত হয় নাই, সীমাবদ্ধতা আরোপ হয় নাই , সার্বিক বিকাশের পথে কোন অন্তরায় সৃষ্টি হয় নাই ।

পরাধীনতা বা অধীনতা মানে অপরের ইচ্ছার দ্বারা সীমিত, বাধাপ্রাপ্ত, স্বল্প পরিসর, নির্দিষ্ট অবয়বে সীমাবদ্ধ এক জগত । যে জগতে রয়েছে একজন স্রষ্টা, যাহা পরিচালিত হয় তার হুকুমে। এই জগত বাস্তব নয় বরং কল্পিত জগত । প্রাকৃতিতে এইরূপ জগতের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।

পরনির্ভরশীল মনের কথা:
স্বল্প জ্ঞানী ও দুর্বল মনের অধিকারীরা বলেন যদি স্রষ্টাই না থাকে তবে মানুষ কিসের ভরসায় চলবে ? কে শান্তনার বাণী শুনিয়ে মনের জ্বালা, গ্লানি ও বিদ্রোহকে দমন করবে ?
যার কেউ নাই , তার রয়েছে স্রষ্টা ।
টাকা মেরেছে , প্রতারণা করেছে , মারধর করেছে , জোর করে ছিনিয়ে নিয়েছে , ঘুষ নিয়েছে,অহেতুক নির্যাতন করেছে…. উপরে একজন আল্লাহ আছে , তিনি সব দেখছেন ও বিচার করবে । মরলে আল্লাহ পাছা দিয়া গরম শিক ঢুকাইয়া দিবে। এই আশ্বাসটুকুই মানুষের মধ্যকার হতাশা ,ক্ষোভ ,ঘৃণা ও বিদ্রোহকে প্রশমিত করে দেয়। ।

মুক্ত ও স্বাধীন মনের কথা
যদি পৃথিবীতে কোন ধর্ম না থাকে তবে মৃত্যুর পর পাপ-পুণ্যের বিচারও থাকবে না । মানুষ যতদিন পৃথিবীতে জীবিত থাকবে ততদিনই সে পৃথিবীর সমস্ত সুখ ভোগ করবে । তখন পরকালের দোহাই থেরাপি আর কাজ করবে না । তাই ,
১-মানুষ সমস্ত লাঞ্ছনা-বঞ্চনা শোষণ নিপীড়ন, নির্যাতন, ঘুষ, দুর্নীতি, জালিয়াতি সহ যত প্রকার অন্যায় অবিচার, অনিয়ম রয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠবে ।
২-কেউ থাকবে বিলাসবহুল প্রাসাদে এবং কেউ থাকে ফুটপাতে – তা হবে না ,তা তারা মেনে নিবে না । ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বলবে,পৃথিবীতে কেউ সম্পদ বানাতে পারেনা , কেবলমাত্র ব্যবহার করতে পারে এবং পৃথিবীতে কেউ সম্পদ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না। সুতরাং মানুষের ব্যক্তিগত বলে কোন সম্পত্তি থাকবে না। সকলে মিলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্ত কিছু ভোগ করবে ।
৩–ভবিষ্যতের উন্নত মানুষগুলো আল্লাহ,ভগবান,গড, ঈশ্বর ইত্যাদি কল্পিত স্রষ্টার সান্নিধ্য ত্যাগ করার ফলে চিন্তা ভাবনার জগতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হবে তাহা এই মহান প্রকৃতির সান্নিধ্য দ্বারা পূরণ হবে । তাই স্রষ্টার হুকুমের কেরামতি থেরাপি থাকবে না । মুক্ত ও স্বাধীন মন নিয়ে আনন্দ চিত্তে সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রাখবে । মানুষ তার সৃজনশীলতা ও মননশীলতার দ্বারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সহ সর্বক্ষেত্রে নব নব আবিষ্কারের মাধ্যমে অতি দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে চলবে । মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, দৈহিক শক্তি বেড়ে যাবে এবং সেই সাথে মানুষের আয়ুষ্কাল অনেক বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক শত বছরে উন্নীত হবে ।
৪-ধর্মহীনতার ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যকার সমস্ত দ্বন্দ্ব ও সংঘাত , যুদ্ধ ,নানাবিধ অর্থনৈতিক , বাণিজ্যিক,রাজনৈতিক শোষণ , বৈষম্য চিরতরে দূর হয়ে যাবে । মানুষ এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখবে এবং পৃথিবী একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে ।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সামনের নৌকা যেদিকে যায় , পিছনের নৌকা তাকে অনুসরণ করে সেদিকেই ধাবিত হয় । প্রকৃতিক জগতের নিয়ম এরকমই হয়ে থাকে । এই কারণেই অতীতের কিছু অগ্রসরমান নিদর্শন যেমন বর্তমানকালে দৃশ্যমান হচ্ছে তদ্রূপ বর্তমানের কিছু অগ্রসরমান নিদর্শনসমূহও ভবিষ্যত গন্তব্যের পথ-নির্দেশ করবে । তাই অতীতের কিছু নিদর্শন যেমন, বিভিন্ন রাজপ্রাসাদ , আগ্রার তাজমহল , ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান ইত্যাদি ইঙ্গিত দিয়েছিল তাদের ভবিষ্যত বংশধর এই ধরনের ইমারতে থাকবে । যদিও বর্তমানে আমরা তার চেয়ে অনেক আধুনিক ইমারতে বসবাস করছি । তদ্রূপ বর্তমান কালের কিছু কিছু বিকাশমান অবকাঠামো ভবিষ্যত গন্তব্য স্থানকে নির্দেশ করছে । যেমন জাতিসংঘ আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে ভবিষ্যতে আমাদের এই পৃথিবী জাতিসংঘ নামক একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হবে । কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকবে না এবং ভৌগলিক অঞ্চল ভিত্তিক মনোনীত প্রতিনিধিদের দ্বারা পৃথিবী পরিচালিত হবে । হয়তো তখন জাতিসংঘের আরও আধুনিকায়ন হবে ।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে সমস্ত দেশের জনসংখ্যার বেশিরভাগই নাস্তিক যেমন ডেনমার্ক ,সুইজারল্যান্ড ,সুইডেন , ফ্রান্স,জার্মানি , চীন ,রাশিয়া, হল্যান্ড. ইজরাইল….. ইত্যাদি দেশগুলো পৃথিবীর উন্নত ও শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে । ইহা আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে ভবিষ্যত প্রজন্ম ধর্ম ত্যাগ করে নাস্তিক হবে এবং পৃথিবী শান্তি ,আনন্দ , প্রগতি ও সার্বিক উন্নয়নের দিকে ধাবিত হবে ।

পিছন মানে অতীত এবং সম্মুখ বা অগ্রগামী মানে ভবিষ্যৎ এর নির্দেশক । তাই এই সময়কার কিছু কিছু জ্ঞানীগুণী তথা অগ্রগামী ব্যক্তিদের মানসিকতা আমাদের ভবিষ্যত বংশধরদের মানসিকতা কেমন হবে তার ইঙ্গিত প্রদান করছে ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesbazar_brekingnews1*5k
© All rights reserved © 2020
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD